নতুন বাংলা বছর ১৪৩৩-এর শুভ সূচনা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দিয়ে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখের দিনে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে সদর উপজেলার ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
চাষিদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ ও গাছের চারা বিতরণের সময় প্রধানমন্ত্রী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমি তাদের (কৃষকদের) গাছের চারা দিচ্ছি। কয়েকজনকে আম ও জাম গাছ দিয়েছি। আমি তাদের বলেছি, এটি বাসার সামনে রোপণ করতে হবে। যারা আম ও জাম গাছ পেয়েছেন, আমি তাদের বলেছি, আম ও জাম যখন ধরবে, আমি খেতে চাই, আমাকে পাঠাবেন।’
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। প্রায় চার কোটি পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত, যা এ দেশের প্রধান পেশা। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে ২২ হাজার কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’-এর সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ‘কৃষক কার্ড’ ছিল জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির একটি। এছাড়া, যেসব কৃষকের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণ ছিল, তা প্রথম এক সপ্তাহের মধ্যে মওকুফ করা হয়েছে। এ সুবিধা পেয়েছেন প্রায় ১২ লাখ কৃষক।
প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরাসরি কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে। কৃষিনির্ভর এলাকায় কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত কলকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় কোল্ডস্টোরেজ তৈরিতে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীরা আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যতবারই দেশ পরিচালনা করেছে, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, জনগণের এই আস্থার মূল্য দেবে বিএনপি সরকার।
অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং কৃষি সচিব রফিকুল-ই মোহামেদ বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে ১৫ জন কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ ও গাছের চারা বিতরণ করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















