বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি প্রবাসী শ্রমবাজার বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য আমাদের শ্রমিকদের প্রধান গন্তব্য হলেও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, তেলের দামের ওঠানামা এবং ‘সৌদাইজেশন’-এর মতো স্থানীয়করণ নীতির কারণে সেখানে কর্মী ছাঁটাই ও অনিশ্চয়তা চরমে পৌঁছেছে। ড. হারুন রশীদ তাঁর বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন যে, কেবল অদক্ষ শ্রমশক্তি রপ্তানি করে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপের দেশগুলোতে নতুন বাজার খোঁজা এখন সময়ের দাবি। রাজশাহীর একদল তরুণের জাপানে কনস্ট্রাকশন ও ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে সফলতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সঠিক কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং ভাষা শিক্ষা থাকলে যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশেও সম্মানজনক জীবিকা নিশ্চিত করা সম্ভব।
নতুন শ্রমবাজার তৈরিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারকে বহুমুখী কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জার্মানি, জাপান ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি (Bilateral Agreement) সম্পাদন এবং আন্তর্জাতিক মানের ‘লেবার মার্কেট ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম’ গড়ে তোলা জরুরি। এছাড়া বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা না গেলে নতুন বাজারে দেশের ভাবমূর্তি সংকটে পড়বে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশের চাকরির তথ্য সংগ্রহ এবং দূতাবাসগুলোকে আরও সক্রিয় করার মাধ্যমে প্রবাসীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান স্তম্ভ হলেও তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসনের বিষয়টি প্রায়শই উপেক্ষিত থাকে। যারা কাজ হারিয়ে দেশে ফিরে আসছেন, তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান বৈশ্বিক মন্দা ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এখনই যদি সমন্বিত জাতীয় নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা না হয়, তবে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের মাধ্যমেই কেবল প্রবাসীদের জন্য একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।
রিপোর্টারের নাম 























