জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি অফিস ও বিপণিবিতানের কর্মঘণ্টা কমানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা কতটা কার্যকর হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ রবিবার থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টায় শপিং মল ও মার্কেট বন্ধ করার কথা থাকলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রতিদিন এক বা দুই ঘণ্টা সময় কমিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাশ্রয় সম্ভব নয়। কারণ, অফিস বা মার্কেট এক ঘণ্টা কম খোলা থাকলেও কর্মীদের সপ্তাহে পাঁচদিনই যাতায়াত করতে হচ্ছে, ফলে যাতায়াতের জ্বালানি খরচে কোনো পরিবর্তন আসছে না। বিশেষজ্ঞরা বরং শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তানের মতো সাপ্তাহিক ছুটি একদিন বাড়িয়ে তিন দিন করার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে যাতায়াত ও বিদ্যুৎ—উভয় খাতেই বড় ধরনের সাশ্রয় নিশ্চিত করা যায়।
বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টায় মার্কেট বন্ধ করা গেলে ডিপিডিসি এলাকায় দৈনিক গড়ে ৯০ থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হতে পারে। তবে বাস্তব চিত্র হলো, নির্দিষ্ট সময়ের পরও মার্কেট পুরোপুরি খালি হতে আরও এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়। পাওয়ার সেলের সাবেক ডিজি বি. ডি. রহমত উল্লাহ মনে করেন, বর্তমান পদক্ষেপে ৫০০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট সাশ্রয় হলেও সংকটের গভীরতা বিবেচনায় এটি পর্যাপ্ত নয়। অন্যদিকে, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন সরাসরি মিটিংয়ের পরিবর্তে জুম বা অনলাইন মিটিংয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জেলা সদরে যাতায়াত বন্ধ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলে সরকারি যানবাহনের জ্বালানি খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব।
এছাড়া উৎসব বা বিয়েবাড়িতে আলোকসজ্জা পুরোপুরি বন্ধ রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যদিও বর্তমানে এলইডি বাতি ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ খরচ আগের চেয়ে কম, তবুও বর্তমান জাতীয় সংকটে বিলাসিতা পরিহার করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিপিডিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাত ৮টার পরিবর্তে ৬টায় শপিং সেন্টার বন্ধের কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে চার ঘণ্টার বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল সময় কমিয়ে নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে যাতায়াত হ্রাস ও ডিজিটাল কর্মপদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমেই এই ঐতিহাসিক জ্বালানি সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব।
রিপোর্টারের নাম 























