ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

পূর্বাচলে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রি, জনমনে আতঙ্ক

রাজধানীর উপকণ্ঠ পূর্বাচলে জননিরাপত্তার অভাবকে কাজে লাগিয়ে এক ভয়াবহ প্রতারণা চক্র গড়ে উঠেছে। গত কয়েক দিন ধরে পূর্বাচলের নির্জন প্লটগুলোতে ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস ‘গরুর মাংস’ হিসেবে বাজারে বিক্রি করার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সম্প্রতি প্রশাসনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ঘোড়ার হাড় ও কঙ্কাল উদ্ধারের পর এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাচলের ১০ নম্বর সেক্টরের ৩০৫ ও ৩০৬ নম্বর রোডের আশপাশের জনশূন্য খালি প্লটগুলোকে এই অসাধু চক্র তাদের প্রধান আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে। পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তার অভাবে রাতের অন্ধকারে সেখানে ট্রাকে করে ঘোড়া নিয়ে আসা হয়। এরপর রাতারাতি সেগুলো জবাই করে মাংস বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল থেকে ১১টি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করা হলেও বিপুলসংখ্যক ঘোড়ার কঙ্কাল ও হাড়গোড় পাওয়া গেছে। পরিত্যক্ত কঙ্কালগুলো পরে অটোরিকশায় করে সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও এখন পর্যন্ত এই চক্রের মূল হোতাদের কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

রূপগঞ্জ থানার নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাহউদ্দীন বলেন, ‘আমি এই থানায় সদ্য যোগদান করেছি। যতটুকু জেনেছি, এই অভিযানে র‍্যাব সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা নাঈম আহমেদ বলেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কিছু ঘোড়া জীবিত উদ্ধার করা হলেও চক্রটি অত্যন্ত ধূর্ত। তিনি বলেন, ‘আমরা পরে শুনেছি জীবিত ঘোড়াগুলো কোথাও সরিয়ে নেওয়া বা বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু যখন এই অপরাধ চলছিল, তখন নিরাপত্তার অভাবে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। মূলত প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এই নির্জন এলাকা অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।’

খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরুর মাংস বলে ঘোড়ার মাংস বিক্রি করা কেবল অপরাধই নয়, বরং এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণও হতে পারে। কারণ এই ঘোড়াগুলো কোথা থেকে আনা হচ্ছে বা এগুলো কোনো রোগে আক্রান্ত কি না, তা পরীক্ষা করার কোনো ব্যবস্থা নেই। পূর্বাচলের মতো একটি পরিকল্পিত নগরে এমন নজিরবিহীন জালিয়াতি আন্তর্জাতিক মানের আবাসন প্রকল্পের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই চক্রের মূলোৎপাটন এবং এলাকায় নিয়ম-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধে মার্কিনদের সমর্থন হ্রাস: ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও তলানিতে

পূর্বাচলে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রি, জনমনে আতঙ্ক

আপডেট সময় : ০৪:৪৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর উপকণ্ঠ পূর্বাচলে জননিরাপত্তার অভাবকে কাজে লাগিয়ে এক ভয়াবহ প্রতারণা চক্র গড়ে উঠেছে। গত কয়েক দিন ধরে পূর্বাচলের নির্জন প্লটগুলোতে ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস ‘গরুর মাংস’ হিসেবে বাজারে বিক্রি করার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সম্প্রতি প্রশাসনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ঘোড়ার হাড় ও কঙ্কাল উদ্ধারের পর এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাচলের ১০ নম্বর সেক্টরের ৩০৫ ও ৩০৬ নম্বর রোডের আশপাশের জনশূন্য খালি প্লটগুলোকে এই অসাধু চক্র তাদের প্রধান আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে। পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তার অভাবে রাতের অন্ধকারে সেখানে ট্রাকে করে ঘোড়া নিয়ে আসা হয়। এরপর রাতারাতি সেগুলো জবাই করে মাংস বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল থেকে ১১টি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করা হলেও বিপুলসংখ্যক ঘোড়ার কঙ্কাল ও হাড়গোড় পাওয়া গেছে। পরিত্যক্ত কঙ্কালগুলো পরে অটোরিকশায় করে সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও এখন পর্যন্ত এই চক্রের মূল হোতাদের কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

রূপগঞ্জ থানার নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাহউদ্দীন বলেন, ‘আমি এই থানায় সদ্য যোগদান করেছি। যতটুকু জেনেছি, এই অভিযানে র‍্যাব সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা নাঈম আহমেদ বলেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কিছু ঘোড়া জীবিত উদ্ধার করা হলেও চক্রটি অত্যন্ত ধূর্ত। তিনি বলেন, ‘আমরা পরে শুনেছি জীবিত ঘোড়াগুলো কোথাও সরিয়ে নেওয়া বা বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু যখন এই অপরাধ চলছিল, তখন নিরাপত্তার অভাবে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। মূলত প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এই নির্জন এলাকা অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।’

খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরুর মাংস বলে ঘোড়ার মাংস বিক্রি করা কেবল অপরাধই নয়, বরং এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণও হতে পারে। কারণ এই ঘোড়াগুলো কোথা থেকে আনা হচ্ছে বা এগুলো কোনো রোগে আক্রান্ত কি না, তা পরীক্ষা করার কোনো ব্যবস্থা নেই। পূর্বাচলের মতো একটি পরিকল্পিত নগরে এমন নজিরবিহীন জালিয়াতি আন্তর্জাতিক মানের আবাসন প্রকল্পের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই চক্রের মূলোৎপাটন এবং এলাকায় নিয়ম-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।