ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে পিডিবি কার্যালয়ে সহকারী প্রকৌশলীকে সিবিএ নেতাদের মারধর, জিডি ও বদলি

চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর সামনেই এক সহকারী প্রকৌশলীকে বেধড়ক পিটিয়েছেন সিবিএ নেতারা। এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষেও ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়। এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

গত মঙ্গলবার দুপুরে নগরের আগ্রাবাদে বিদ্যুৎ ভবনে এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং পরে বুধবার জনসম্মুখে আসে। ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত চারজনকে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়েছে।

পিডিবি সূত্রে জানা যায়, ‘কাজ নাই, মজুরি নাই’ ভিত্তিতে একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাহী প্রকৌশলী নিলুফার ইয়াসমিনকে এ বিষয়ে জেরা করতে আসেন সিবিএ নেতারা।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী গাজী আইয়ুব, প্লান্ট অপারেটর হাফেজুর রহমান, লাইনম্যান নুরুননবী, ইলেকট্রিশিয়ান শফিকুল ইসলাম ও গাড়িচালক আইয়ুব আলীসহ প্রায় ৪০ জনের একটি দল। তারা পিডিবির কম্পিউটার সেন্টারে অবৈধভাবে প্রবেশ করে।

নির্বাহী প্রকৌশলী নিলুফার ইয়াসমিনের সঙ্গে উচ্চস্বরে বাকবিতণ্ডা শুরু করে ওই দলটি। তাদের না জানিয়ে কেন ওই ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা জানতে বারবার চাপ দেওয়া হয় এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নিলুফার ইয়াসমিন জানান, তার সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পাশের কক্ষে থাকা সহকারী প্রকৌশলী মাহাদি হাসান ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। তিনি দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে পরিস্থিতি শান্ত করার এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। এতেই উচ্ছৃঙ্খল সিবিএ নেতার দলটি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা মাহাদিকে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে টেনেহিঁচড়ে কক্ষের বাইরে নিয়ে যায়। এরপর তার ওপর দলবদ্ধভাবে শারীরিক হামলা চালানো হয়। তাকে নির্বিচারে চড়-থাপ্পড় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার সময় অন্য অফিস সহকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে এসে বাধা না দিলে মাহাদি হাসানের প্রাণনাশের আশঙ্কা ছিল। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময়ও অফিসের বাইরে গিয়ে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে পুলিশের বড় অভিযান: ৪২ কেজি গাঁজাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে পিডিবি কার্যালয়ে সহকারী প্রকৌশলীকে সিবিএ নেতাদের মারধর, জিডি ও বদলি

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর সামনেই এক সহকারী প্রকৌশলীকে বেধড়ক পিটিয়েছেন সিবিএ নেতারা। এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষেও ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়। এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

গত মঙ্গলবার দুপুরে নগরের আগ্রাবাদে বিদ্যুৎ ভবনে এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং পরে বুধবার জনসম্মুখে আসে। ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত চারজনকে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়েছে।

পিডিবি সূত্রে জানা যায়, ‘কাজ নাই, মজুরি নাই’ ভিত্তিতে একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাহী প্রকৌশলী নিলুফার ইয়াসমিনকে এ বিষয়ে জেরা করতে আসেন সিবিএ নেতারা।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী গাজী আইয়ুব, প্লান্ট অপারেটর হাফেজুর রহমান, লাইনম্যান নুরুননবী, ইলেকট্রিশিয়ান শফিকুল ইসলাম ও গাড়িচালক আইয়ুব আলীসহ প্রায় ৪০ জনের একটি দল। তারা পিডিবির কম্পিউটার সেন্টারে অবৈধভাবে প্রবেশ করে।

নির্বাহী প্রকৌশলী নিলুফার ইয়াসমিনের সঙ্গে উচ্চস্বরে বাকবিতণ্ডা শুরু করে ওই দলটি। তাদের না জানিয়ে কেন ওই ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা জানতে বারবার চাপ দেওয়া হয় এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নিলুফার ইয়াসমিন জানান, তার সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পাশের কক্ষে থাকা সহকারী প্রকৌশলী মাহাদি হাসান ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। তিনি দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে পরিস্থিতি শান্ত করার এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। এতেই উচ্ছৃঙ্খল সিবিএ নেতার দলটি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা মাহাদিকে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে টেনেহিঁচড়ে কক্ষের বাইরে নিয়ে যায়। এরপর তার ওপর দলবদ্ধভাবে শারীরিক হামলা চালানো হয়। তাকে নির্বিচারে চড়-থাপ্পড় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার সময় অন্য অফিস সহকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে এসে বাধা না দিলে মাহাদি হাসানের প্রাণনাশের আশঙ্কা ছিল। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময়ও অফিসের বাইরে গিয়ে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।