ঢাকা ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ইসরাইলের বিরুদ্ধে পশ্চিম তীরে ‘জাতিগত নিধন’ অভিযানের অভিযোগ অ্যামনেস্টির

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২৬:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে বেদুইন ও পশুপালননির্ভর সম্প্রদায়ের ওপর ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযান চালানোর গুরুতর অভিযোগ এনেছে। বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংগঠনটি দাবি করেছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসরাইল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের দখল বা অন্তর্ভুক্তিকরণ (অ্যানেক্সেশন) ত্বরান্বিত করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই গ্রামীণ ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠী বসতি স্থাপনকারী ইসরাইলিদের সহিংসতা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির প্রধান শিকার হচ্ছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া সি’-তে অন্তত ২৭টি বেদুইন ও পশুপালক সম্প্রদায়, যাদের মধ্যে শত শত ফিলিস্তিনি রয়েছে, তারা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে অথবা বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই এলাকা পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ জুড়ে বিস্তৃত এবং ১৯৯০-এর দশকের অসলো চুক্তি অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে।

অ্যামনেস্টির ভাষ্যমতে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বেদুইন ও পশুপালন সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রনেতৃত্বাধীন একটি জাতিগত নির্মূল অভিযানের মাধ্যমে দখলদারিত্ব দ্রুততর করছে। বর্তমান ইসরাইলি সরকার, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম ডানপন্থী, বসতি স্থাপনকারীদের ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী এজেন্ডাকে সহায়তা করছে। সরকার বসতি সম্প্রসারণ বাড়িয়েছে, বসতি এলাকায় আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা বৃদ্ধি করেছে এবং বসতি স্থাপনকারীদের অস্ত্রধারণের সুযোগ দিয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রসমর্থিত সহিংসতা বেড়েছে।

প্রতিবেদনটি আরও দাবি করে যে, কিছু ইসরাইলি কর্মকর্তার প্রকাশ্য আহ্বান এবং ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি কমানোর নীতিগত পদক্ষেপগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করছে। অ্যামনেস্টি স্পষ্ট করেছে যে, এই ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান রাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন এবং রাষ্ট্র-সমর্থিত; এটি কেবল কিছু উগ্র বসতি স্থাপনকারীর কাজ নয়।’ জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরও সম্প্রতি গাজা ও পশ্চিম তীরে ‘জাতিগত নির্মূলের ইঙ্গিত’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। অ্যামনেস্টি ইসরাইলের দখলদার শক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেছে, তারা গুরুতর লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

ইসরাইলের বিরুদ্ধে পশ্চিম তীরে ‘জাতিগত নিধন’ অভিযানের অভিযোগ অ্যামনেস্টির

আপডেট সময় : ০৭:২৬:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে বেদুইন ও পশুপালননির্ভর সম্প্রদায়ের ওপর ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযান চালানোর গুরুতর অভিযোগ এনেছে। বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংগঠনটি দাবি করেছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসরাইল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের দখল বা অন্তর্ভুক্তিকরণ (অ্যানেক্সেশন) ত্বরান্বিত করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই গ্রামীণ ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠী বসতি স্থাপনকারী ইসরাইলিদের সহিংসতা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির প্রধান শিকার হচ্ছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া সি’-তে অন্তত ২৭টি বেদুইন ও পশুপালক সম্প্রদায়, যাদের মধ্যে শত শত ফিলিস্তিনি রয়েছে, তারা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে অথবা বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই এলাকা পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ জুড়ে বিস্তৃত এবং ১৯৯০-এর দশকের অসলো চুক্তি অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে।

অ্যামনেস্টির ভাষ্যমতে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বেদুইন ও পশুপালন সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রনেতৃত্বাধীন একটি জাতিগত নির্মূল অভিযানের মাধ্যমে দখলদারিত্ব দ্রুততর করছে। বর্তমান ইসরাইলি সরকার, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম ডানপন্থী, বসতি স্থাপনকারীদের ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী এজেন্ডাকে সহায়তা করছে। সরকার বসতি সম্প্রসারণ বাড়িয়েছে, বসতি এলাকায় আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা বৃদ্ধি করেছে এবং বসতি স্থাপনকারীদের অস্ত্রধারণের সুযোগ দিয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রসমর্থিত সহিংসতা বেড়েছে।

প্রতিবেদনটি আরও দাবি করে যে, কিছু ইসরাইলি কর্মকর্তার প্রকাশ্য আহ্বান এবং ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি কমানোর নীতিগত পদক্ষেপগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করছে। অ্যামনেস্টি স্পষ্ট করেছে যে, এই ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান রাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন এবং রাষ্ট্র-সমর্থিত; এটি কেবল কিছু উগ্র বসতি স্থাপনকারীর কাজ নয়।’ জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরও সম্প্রতি গাজা ও পশ্চিম তীরে ‘জাতিগত নির্মূলের ইঙ্গিত’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। অ্যামনেস্টি ইসরাইলের দখলদার শক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেছে, তারা গুরুতর লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।