রাজধানীর বেইলি রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। এই ঘটনায় বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের মালিকসহ মোট ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী বৃহস্পতিবার এই অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোগপত্রে দণ্ডবিধির সাতটি ধারার অধীনে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে তদন্তে দুজন আসামির মৃত্যু হওয়ায় এবং দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লিখিত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন চায়ের চুমুক কফিশপের স্বত্বাধিকারী আনোয়ারুল হক, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার মুন্সি হামিমুল আলম বিপুল, কাচ্চি ভাই, খানাজ এবং তাওয়াজ রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল সিরাজ, চায়ের চুমুক কফিশপের স্পেস মালিক ইকবাল হোসেন কাউসার, কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার জেইন উদ্দিন জিসান, জেস্টি রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মোহর আলী পলাশ ও মো. ফরহাদ নাসিম আলীম, ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মতিন, ৬ষ্ঠ তলার ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম খাঁন, মেজবানিখানা রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী লতিফুর নেহার, খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও অঞ্জন কুমার সাহা, এ্যামব্রোশিয়া রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. মুসফিকুর রহমান, পিৎজাইন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী জগলুল হাসান, স্ট্রিট ওভেন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আশিকুর রহমান ও হোসাইন মোহাম্মদ তারেক, ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী রাসেল আহম্মেদ, মো. সাদরিল আহম্মেদ শুভ, আদিব আলম, রাফি উজ-জাহেদ ও শাহ ফয়সাল নাবিদ।
তদন্তে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেও মৃত্যুবরণ করায় স্পেস মালিক এ.কে নাসিম হায়দার ও ক্যাপ্টেন সরদার মো. মিজানুর রহমানকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার হলেও মো. আনোয়ার হোসেন সুমন এবং শফিকুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাদেরও অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি বিধি-নিষেধ অমান্য করে এবং বিভিন্ন দপ্তরের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই নিয়ম-নীতি না মেনে অবৈধভাবে হোটেল পরিচালনা করছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 




















