ঢাকা ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

মায়ের মৃত্যু, বাবার দ্বিতীয় বিয়ে: ঠাঁই হলো না প্রতিবন্ধী এনামুলসহ চার ভাইবোনের, পাশে দাঁড়ানোর আকুতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরগজালিয়া গ্রামের কবির মৃধা ও হাওয়া বেগম দম্পতির চার সন্তান। ছোট সন্তান হাবিবা আক্তারের জন্মের মাত্র দুই ঘণ্টা পরই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান মা হাওয়া বেগম। চার ভাইবোনের মধ্যে মেজো ছেলে এনামুল ইসলাম জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। ১৬ বছর বয়সী এনামুলের ডান হাত ও ডান পা সম্পূর্ণ অচল, হুইলচেয়ার ছাড়া তিনি চলাফেরা করতে পারেন না। তবে শারীরিক অক্ষমতা তাকে দমাতে পারেনি, এনামুল বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষার্থী।

পরিবারের বড় ছেলে সাইফুল ইসলামের বয়স ২০ বছর, তিনি বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ছোট ছেলে ইয়াদুল এবং ছোট মেয়ে হাবিবার বয়স যথাক্রমে ১০ ও ৯ বছর। দুজনেই চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

মায়ের মৃত্যুর মাত্র দুই বছরের মাথায় বাবা কবির মৃধা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর সৎমায়ের সংসারে প্রতিবন্ধী এনামুল ইসলামসহ এই চার ভাইবোনের আর ঠাঁই হয়নি। বাধ্য হয়েই তারা আশ্রয় নিয়েছে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের জালিসা গ্রামে বসবাসরত বৃদ্ধ নানা-নানির কাছে। গত ৯ বছর ধরে নানা শহিদুল ইসলাম ও নানি তাদের নাতি-নাতনিদের নিয়ে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন। কিন্তু বয়সের ভারে এখন তারাও অনেকটাই অচল। এ কারণে বৃদ্ধ নানা শহিদুল ইসলাম তার নাতি-নাতনিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত।

প্রতিবন্ধী নাতি এনামুলের চিকিৎসার জন্য এসে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে শহিদুল ইসলাম জানান, তাদের কোনো ছেলেসন্তান নেই, আছে চার মেয়ে। ২২ বছর আগে হাওয়া বেগমকে কবির মৃধার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন। ছোট নাতনির জন্ম দিতে গিয়ে মেয়ের মৃত্যু হয়। কবির মৃধা দ্বিতীয় বিয়ে করার পর সৎমায়ের সংসারে নাতি-নাতনিদের জায়গা না হওয়ায় তিনি তাদের নিজের কাছে নিয়ে আসেন। বড় নাতি এখন অনার্সে পড়ছে এবং বাকিরাও পড়াশোনা করছে। মেজো নাতি এনামুল প্রতিবন্ধী। তার স্ত্রীও অসুস্থ, চলাফেরা করতে পারেন না। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কবির মৃধা তার সন্তানদের কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেন না। তাই এনামুল ও তার ভাইবোনদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

যদি কেউ প্রতিবন্ধী এনামুলকে সাহায্য করতে চান, তার নানা শহিদুল ইসলাম ০১৭৯৭-৮৪১৬৭৮ বিকাশ নম্বরে সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাম্পে তেল নেই, জমিতে পানি নেই: রংপুরের বোরো ক্ষেত ফেটে চৌচির, দিশেহারা কৃষক

মায়ের মৃত্যু, বাবার দ্বিতীয় বিয়ে: ঠাঁই হলো না প্রতিবন্ধী এনামুলসহ চার ভাইবোনের, পাশে দাঁড়ানোর আকুতি

আপডেট সময় : ০৩:৪২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরগজালিয়া গ্রামের কবির মৃধা ও হাওয়া বেগম দম্পতির চার সন্তান। ছোট সন্তান হাবিবা আক্তারের জন্মের মাত্র দুই ঘণ্টা পরই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান মা হাওয়া বেগম। চার ভাইবোনের মধ্যে মেজো ছেলে এনামুল ইসলাম জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। ১৬ বছর বয়সী এনামুলের ডান হাত ও ডান পা সম্পূর্ণ অচল, হুইলচেয়ার ছাড়া তিনি চলাফেরা করতে পারেন না। তবে শারীরিক অক্ষমতা তাকে দমাতে পারেনি, এনামুল বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষার্থী।

পরিবারের বড় ছেলে সাইফুল ইসলামের বয়স ২০ বছর, তিনি বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ছোট ছেলে ইয়াদুল এবং ছোট মেয়ে হাবিবার বয়স যথাক্রমে ১০ ও ৯ বছর। দুজনেই চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

মায়ের মৃত্যুর মাত্র দুই বছরের মাথায় বাবা কবির মৃধা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর সৎমায়ের সংসারে প্রতিবন্ধী এনামুল ইসলামসহ এই চার ভাইবোনের আর ঠাঁই হয়নি। বাধ্য হয়েই তারা আশ্রয় নিয়েছে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের জালিসা গ্রামে বসবাসরত বৃদ্ধ নানা-নানির কাছে। গত ৯ বছর ধরে নানা শহিদুল ইসলাম ও নানি তাদের নাতি-নাতনিদের নিয়ে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন। কিন্তু বয়সের ভারে এখন তারাও অনেকটাই অচল। এ কারণে বৃদ্ধ নানা শহিদুল ইসলাম তার নাতি-নাতনিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত।

প্রতিবন্ধী নাতি এনামুলের চিকিৎসার জন্য এসে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে শহিদুল ইসলাম জানান, তাদের কোনো ছেলেসন্তান নেই, আছে চার মেয়ে। ২২ বছর আগে হাওয়া বেগমকে কবির মৃধার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন। ছোট নাতনির জন্ম দিতে গিয়ে মেয়ের মৃত্যু হয়। কবির মৃধা দ্বিতীয় বিয়ে করার পর সৎমায়ের সংসারে নাতি-নাতনিদের জায়গা না হওয়ায় তিনি তাদের নিজের কাছে নিয়ে আসেন। বড় নাতি এখন অনার্সে পড়ছে এবং বাকিরাও পড়াশোনা করছে। মেজো নাতি এনামুল প্রতিবন্ধী। তার স্ত্রীও অসুস্থ, চলাফেরা করতে পারেন না। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কবির মৃধা তার সন্তানদের কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেন না। তাই এনামুল ও তার ভাইবোনদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

যদি কেউ প্রতিবন্ধী এনামুলকে সাহায্য করতে চান, তার নানা শহিদুল ইসলাম ০১৭৯৭-৮৪১৬৭৮ বিকাশ নম্বরে সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করেছেন।