ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

এক-এগারো ও পরবর্তী সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে: প্রধান প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ২০০৭-০৮ সালের এক-এগারোর সময় এবং পরবর্তীকালে সংঘটিত সব মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনা তদন্ত করা হবে এবং অপরাধীদের ট্রাইব্যুনালের বিচারের সম্মুখীন করা হবে। মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শত শত ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে, ট্রাইব্যুনালে সেগুলোর বিচার হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তৎকালীন সরকারের আমলে কমন ডিজাইনে ক্রসফায়ারের মতো শত শত অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। যারা তৎকালীন সরকারের মতের বিরুদ্ধে গিয়েছে কিংবা স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে, তাদের পুলিশকে ব্যবহার করে বা নিজেদের সহযোগী হয়ে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, সেসময় একই রকম অসংখ্য গল্প আমাদের সামনে বারবার উপস্থান করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে সিস্টেমেটিক, ওয়াইড স্প্রেড ও টার্গেটেট হত্যাকাণ্ডের আওতায় এসব অপরাধের বিষয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থাকে নির্দেশনা দিয়েছেন, সারাদেশে কতগুলো ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে তার একটি পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সবগুলো মামলার কপিও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, একটি কমিটি গঠন করে মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। যে মামলাগুলো ট্রাইব্যুনালের বিচারের আওতাভুক্ত হবে, সেগুলোর বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। জুলাই আন্দোলনের সময় সারাদেশে অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল বলেন, ৫ আগস্টের পর এসব ঘটনায় অসংখ্য মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৪০০-৫০০ জন আসামি রয়েছে। এমন পাঁচ-সাতশ মামলার কপি ইতোমধ্যে প্রসিকিউশন অফিসে জমা হয়েছে। একটি টিম করে এগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে, যাতে কোনো অপরাধী ছাড়া না পেয়ে যায় এবং কোনো নির্দোষ মানুষ আর ভোগান্তিতে না পড়ে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতি ও সন্ত্রাসকে রাজনৈতিক পরিচয়মুক্ত রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

এক-এগারো ও পরবর্তী সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে: প্রধান প্রসিকিউটর

আপডেট সময় : ০৬:২২:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ২০০৭-০৮ সালের এক-এগারোর সময় এবং পরবর্তীকালে সংঘটিত সব মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনা তদন্ত করা হবে এবং অপরাধীদের ট্রাইব্যুনালের বিচারের সম্মুখীন করা হবে। মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শত শত ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে, ট্রাইব্যুনালে সেগুলোর বিচার হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তৎকালীন সরকারের আমলে কমন ডিজাইনে ক্রসফায়ারের মতো শত শত অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। যারা তৎকালীন সরকারের মতের বিরুদ্ধে গিয়েছে কিংবা স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে, তাদের পুলিশকে ব্যবহার করে বা নিজেদের সহযোগী হয়ে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, সেসময় একই রকম অসংখ্য গল্প আমাদের সামনে বারবার উপস্থান করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে সিস্টেমেটিক, ওয়াইড স্প্রেড ও টার্গেটেট হত্যাকাণ্ডের আওতায় এসব অপরাধের বিষয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থাকে নির্দেশনা দিয়েছেন, সারাদেশে কতগুলো ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে তার একটি পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সবগুলো মামলার কপিও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, একটি কমিটি গঠন করে মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। যে মামলাগুলো ট্রাইব্যুনালের বিচারের আওতাভুক্ত হবে, সেগুলোর বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। জুলাই আন্দোলনের সময় সারাদেশে অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল বলেন, ৫ আগস্টের পর এসব ঘটনায় অসংখ্য মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৪০০-৫০০ জন আসামি রয়েছে। এমন পাঁচ-সাতশ মামলার কপি ইতোমধ্যে প্রসিকিউশন অফিসে জমা হয়েছে। একটি টিম করে এগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে, যাতে কোনো অপরাধী ছাড়া না পেয়ে যায় এবং কোনো নির্দোষ মানুষ আর ভোগান্তিতে না পড়ে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।