ঢাকা ০২:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

হামের প্রাদুর্ভাব: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধে করণীয়

হাম মূলত একটি অতিসংক্রামক ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট রোগ, যা শ্বাসনালি দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে দুর্বল করে দেয়। এর ফলে হামে আক্রান্ত শিশুরা সহজেই ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে।

এই রোগের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং জ্বরের চার দিনের মাথায় মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে র‍্যাশ দেখা দেওয়া।

হামের জটিলতা হিসেবে প্রায়ই নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, কানপাকা, মুখে ঘা, তীব্র অপুষ্টি এবং মস্তিষ্কের প্রদাহসহ বিভিন্ন ধরনের গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা শিশুর জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

হামের ভাইরাস হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মুহূর্তেই আক্রান্ত শিশুর কাছ থেকে আশপাশে থাকা সুস্থ শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যার ফলে এটি দ্রুত একটি নির্দিষ্ট এলাকায় প্রাদুর্ভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম।

বাংলাদেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য টিকাদান কর্মসূচিতে দুবার ‘এমআর’ (মিজলস রুবেলা) টিকা দেওয়া হয় – প্রথম ডোজ ৯ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাস বয়সে। ২০২৫ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের এই বয়সী শিশুদের ৮৮ শতাংশ দুই ডোজ ‘এমআর’ টিকা গ্রহণ করেছে, যা তাদের প্রায় সারা জীবনের জন্য হামের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়।

তবে, দুই ডোজ টিকা পাওয়ার পরও কিছু এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো, এখনো অনেক শিশু এই ‘এমআর’ টিকা পায়নি বা তাদের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়নি; আবার কেউ কেউ কেবল একটি ডোজ নিয়েছে। এসব টিকাবঞ্চিত শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি যেমন বেশি, তেমনি তাদের মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাও অনেক বেশি। কিছু ক্ষেত্রে, টিকা গ্রহণের পরও শরীরে আশানুরূপ প্রতিরোধক অ্যান্টিবডি তৈরি না হলে পুনরায় হামে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।

কোনো শিশুর জ্বর এবং শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে তা হাম হোক বা না হোক, অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। র‍্যাশ দেখা দেওয়ার দিন থেকে অন্তত পাঁচ দিন আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। এ সময়ে আক্রান্ত শিশুর খাবার, পানীয় ও অন্যান্য স্বাভাবিক পরিচর্যা অব্যাহত রাখতে হবে।

পাশাপাশি, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিকসহ বয়স অনুযায়ী সঠিক ডোজে পরপর দুই দিন দুটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন এ ক্যাপসুল শিশুকে খাওয়াতে হবে। শিশুর শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো বিপদচিহ্ন দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতি ও সন্ত্রাসকে রাজনৈতিক পরিচয়মুক্ত রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

হামের প্রাদুর্ভাব: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধে করণীয়

আপডেট সময় : ০৫:০৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

হাম মূলত একটি অতিসংক্রামক ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট রোগ, যা শ্বাসনালি দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে দুর্বল করে দেয়। এর ফলে হামে আক্রান্ত শিশুরা সহজেই ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে।

এই রোগের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং জ্বরের চার দিনের মাথায় মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে র‍্যাশ দেখা দেওয়া।

হামের জটিলতা হিসেবে প্রায়ই নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, কানপাকা, মুখে ঘা, তীব্র অপুষ্টি এবং মস্তিষ্কের প্রদাহসহ বিভিন্ন ধরনের গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা শিশুর জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

হামের ভাইরাস হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মুহূর্তেই আক্রান্ত শিশুর কাছ থেকে আশপাশে থাকা সুস্থ শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যার ফলে এটি দ্রুত একটি নির্দিষ্ট এলাকায় প্রাদুর্ভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম।

বাংলাদেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য টিকাদান কর্মসূচিতে দুবার ‘এমআর’ (মিজলস রুবেলা) টিকা দেওয়া হয় – প্রথম ডোজ ৯ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাস বয়সে। ২০২৫ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের এই বয়সী শিশুদের ৮৮ শতাংশ দুই ডোজ ‘এমআর’ টিকা গ্রহণ করেছে, যা তাদের প্রায় সারা জীবনের জন্য হামের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়।

তবে, দুই ডোজ টিকা পাওয়ার পরও কিছু এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো, এখনো অনেক শিশু এই ‘এমআর’ টিকা পায়নি বা তাদের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়নি; আবার কেউ কেউ কেবল একটি ডোজ নিয়েছে। এসব টিকাবঞ্চিত শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি যেমন বেশি, তেমনি তাদের মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাও অনেক বেশি। কিছু ক্ষেত্রে, টিকা গ্রহণের পরও শরীরে আশানুরূপ প্রতিরোধক অ্যান্টিবডি তৈরি না হলে পুনরায় হামে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।

কোনো শিশুর জ্বর এবং শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে তা হাম হোক বা না হোক, অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। র‍্যাশ দেখা দেওয়ার দিন থেকে অন্তত পাঁচ দিন আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। এ সময়ে আক্রান্ত শিশুর খাবার, পানীয় ও অন্যান্য স্বাভাবিক পরিচর্যা অব্যাহত রাখতে হবে।

পাশাপাশি, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিকসহ বয়স অনুযায়ী সঠিক ডোজে পরপর দুই দিন দুটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন এ ক্যাপসুল শিশুকে খাওয়াতে হবে। শিশুর শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো বিপদচিহ্ন দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।