ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

রাশিয়া থেকে ৬ লাখ টন ডিজেল কিনতে চায় বাংলাদেশ: যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘স্যাংশন ওয়েভার’ চেয়ে চিঠি

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও তেলের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে রাশিয়ার কাছ থেকে বড় অঙ্কের ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে দুই মাসের জন্য অথবা অন্তত ৬ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল কিনতে আগ্রহী বাংলাদেশ। তবে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় এই আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘স্যাংশন ওয়েভার’ বা বিশেষ ছাড় চেয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। প্রতিবেশী দেশ ভারত যেভাবে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানিতে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে, বাংলাদেশও একই ধরনের সুযোগ প্রত্যাশা করছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, ঈদের আগে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা জরুরি। মার্কিন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়ার অনুরোধ জানালে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে তা প্রেরণ করেছে। এখন ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়ুর অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।

বর্তমানে বাংলাদেশের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্য, যা যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই ঝুঁকি এড়াতে সরকার বিকল্প উৎস হিসেবে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান এবং কাজাখস্তানের মতো দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ইন্দোনেশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেলবাহী চারটি কার্গো আজই দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া ভারত থেকেও চলতি বছরের প্রথমার্ধে ৬০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চলমান আছে।

জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৩৩ হাজার টন ডিজেল মজুত রয়েছে। তবে এপ্রিল মাসের চাহিদা মেটাতে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আরও ১ লাখ ৫৪ হাজার টন জ্বালানি তেল আসার অপেক্ষায় রয়েছে। রাশিয়ার কাছ থেকে এই বিপুল পরিমাণ ডিজেল আমদানির অনুমতি মিললে দেশের জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং সম্ভাব্য লোডশেডিং বা সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসির ফ্যাকাশে পারফরম্যান্সে ইন্টার মিয়ামির ড্রয়ের ধারা অব্যাহত

রাশিয়া থেকে ৬ লাখ টন ডিজেল কিনতে চায় বাংলাদেশ: যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘স্যাংশন ওয়েভার’ চেয়ে চিঠি

আপডেট সময় : ১২:৪৭:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও তেলের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে রাশিয়ার কাছ থেকে বড় অঙ্কের ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে দুই মাসের জন্য অথবা অন্তত ৬ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল কিনতে আগ্রহী বাংলাদেশ। তবে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় এই আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘স্যাংশন ওয়েভার’ বা বিশেষ ছাড় চেয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। প্রতিবেশী দেশ ভারত যেভাবে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানিতে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে, বাংলাদেশও একই ধরনের সুযোগ প্রত্যাশা করছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, ঈদের আগে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা জরুরি। মার্কিন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়ার অনুরোধ জানালে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে তা প্রেরণ করেছে। এখন ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়ুর অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।

বর্তমানে বাংলাদেশের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্য, যা যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই ঝুঁকি এড়াতে সরকার বিকল্প উৎস হিসেবে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান এবং কাজাখস্তানের মতো দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ইন্দোনেশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেলবাহী চারটি কার্গো আজই দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া ভারত থেকেও চলতি বছরের প্রথমার্ধে ৬০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চলমান আছে।

জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৩৩ হাজার টন ডিজেল মজুত রয়েছে। তবে এপ্রিল মাসের চাহিদা মেটাতে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আরও ১ লাখ ৫৪ হাজার টন জ্বালানি তেল আসার অপেক্ষায় রয়েছে। রাশিয়ার কাছ থেকে এই বিপুল পরিমাণ ডিজেল আমদানির অনুমতি মিললে দেশের জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং সম্ভাব্য লোডশেডিং বা সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।