ঢাকা ০৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

হাসপাতাল বন্ধে বিপাকে চা-শ্রমিক: চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত লক্ষাধিক পরিবার

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগরে অবস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল গত ১৫ দিন ধরে বন্ধ থাকায় লক্ষাধিক চা-শ্রমিক ও তাদের পরিবার চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ষষ্ঠ শ্রেণির স্কুল ছাত্রী ঐশি রবিদাসের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। এর ফলে অনেক শ্রমিক সরকারি হাসপাতালে অধিক অর্থ ব্যয় করে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের জন্য একটি বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। শ্রমিক নেতাদের দাবি, হাসপাতাল বন্ধ থাকার কারণে গত কয়েকদিনে বিভিন্ন বাগানে বেশ কয়েকজন শ্রমিক বিনা চিকিৎসায় মারাও গেছেন।

হাসপাতালটি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট। এটি ডানকান ব্রাদার্সের মালিকানাধীন ৩৬টি চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হতো। বর্তমানে হাসপাতাল বন্ধ থাকায় কেবল কর্মীরাই নন, বাগানের চা শ্রমিকরাও অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়ছেন। যেখানে ক্যামেলিয়া হাসপাতালে প্রায় কোনো খরচ ছাড়াই চিকিৎসা পাওয়া যেত, সেখানে সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে আনতে হচ্ছে, যা অনেক শ্রমিকের সাধ্যের বাইরে।

লংলা চা বাগানের বাবুল পাশি জানান, তার স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করতে হয়েছে এবং এতে তার সাত থেকে আট হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ ক্যামেলিয়া হাসপাতাল খোলা থাকলে এই খরচ হতো না। একইভাবে, কমলগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রামপতি রবিদাস ও তার স্বামী, এবং জয়রাম ভৌমিক ও সুমন বৈদ্য অভিযোগ করেছেন যে, সরকারি হাসপাতালে ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাদের বাইরে থেকে টাকা দিয়ে জিনিসপত্র কিনতে হচ্ছে। ক্যামেলিয়া হাসপাতাল চালু থাকলে তারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পেতেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাটোরের গুরুদাসপুরে কলেজে কাফনের কাপড় পার্সেল, শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক

হাসপাতাল বন্ধে বিপাকে চা-শ্রমিক: চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত লক্ষাধিক পরিবার

আপডেট সময় : ০৩:১১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগরে অবস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল গত ১৫ দিন ধরে বন্ধ থাকায় লক্ষাধিক চা-শ্রমিক ও তাদের পরিবার চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ষষ্ঠ শ্রেণির স্কুল ছাত্রী ঐশি রবিদাসের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। এর ফলে অনেক শ্রমিক সরকারি হাসপাতালে অধিক অর্থ ব্যয় করে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের জন্য একটি বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। শ্রমিক নেতাদের দাবি, হাসপাতাল বন্ধ থাকার কারণে গত কয়েকদিনে বিভিন্ন বাগানে বেশ কয়েকজন শ্রমিক বিনা চিকিৎসায় মারাও গেছেন।

হাসপাতালটি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট। এটি ডানকান ব্রাদার্সের মালিকানাধীন ৩৬টি চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হতো। বর্তমানে হাসপাতাল বন্ধ থাকায় কেবল কর্মীরাই নন, বাগানের চা শ্রমিকরাও অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়ছেন। যেখানে ক্যামেলিয়া হাসপাতালে প্রায় কোনো খরচ ছাড়াই চিকিৎসা পাওয়া যেত, সেখানে সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে আনতে হচ্ছে, যা অনেক শ্রমিকের সাধ্যের বাইরে।

লংলা চা বাগানের বাবুল পাশি জানান, তার স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করতে হয়েছে এবং এতে তার সাত থেকে আট হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ ক্যামেলিয়া হাসপাতাল খোলা থাকলে এই খরচ হতো না। একইভাবে, কমলগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রামপতি রবিদাস ও তার স্বামী, এবং জয়রাম ভৌমিক ও সুমন বৈদ্য অভিযোগ করেছেন যে, সরকারি হাসপাতালে ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাদের বাইরে থেকে টাকা দিয়ে জিনিসপত্র কিনতে হচ্ছে। ক্যামেলিয়া হাসপাতাল চালু থাকলে তারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পেতেন।