সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে পাকিস্তান দেশটি সামরিক বাহিনী ও যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে। এটি উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির অধীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে জানা গেছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতি অনুসারে, পাকিস্তান থেকে আগত সামরিক বাহিনী ও যুদ্ধবিমান সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কিং আব্দুল আজিজ বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছেছে। এই সেনা মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য হলো দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে সম্পাদিত যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিকে আরও শক্তিশালী করা।
পাকিস্তানি এই বাহিনীতে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান এবং সহায়ক বিমান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর লক্ষ্য হলো দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যৌথ সামরিক সমন্বয় বৃদ্ধি করা এবং তাদের অভিযানিক প্রস্তুতির স্তর উন্নত করা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানের একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং আরও দুটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে যে, ইরানের হামলায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এবং একজন সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই বিমানগুলো পাঠানো হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান যে, তারা ‘কাউকে আক্রমণ করতে সেখানে যাননি’।
সূত্রগুলো আরও জানায়, পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো রিয়াদকে এই আশ্বাস প্রদান করা যে, ইসলামাবাদ ভবিষ্যতে যেকোনো হামলা থেকে সৌদি আরবকে রক্ষা করতে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
কৌশলগত সামরিক সহযোগিতা, পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং অভিন্ন ইসলামি ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে একটি বহুমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান, যার মধ্যে অর্থনৈতিক সহায়তা এবং জ্বালানি সরবরাহও অন্তর্ভুক্ত। গত বছরের সেপ্টেম্বরে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান রিয়াদে একটি ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছিলেন, যেখানে চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে উভয়ের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে গণ্য করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 























