চাকরিজীবনের শেষ প্রান্তে এসে প্রত্যেক কর্মজীবী মানুষই প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা বা স্বপ্নপূরণের আশা রাখেন। কিন্তু বাংলাদেশের চা-শিল্পের শ্রমিকদের বাস্তবতা ভিন্ন। কঠোর পরিশ্রমের পরও তারা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হন এবং সামান্য আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খান। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাদের প্রাপ্য পিএফের অর্থ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা।
নিয়ম অনুযায়ী, শ্রমিকদের বেতনের একটি অংশ নিয়মিত এই তহবিলে জমা হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে ৫৮টি চা-বাগানের মালিকপক্ষ এই তহবিলে বিপুল অঙ্কের টাকা জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে, যে তহবিলটি তাদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা ছিল, সেটিই এখন তাদের দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের শ্রমিকেরা এখন তাদের সঞ্চিত অর্থ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। অনেক শ্রমিক অবসরের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন, কিন্তু তাদের সঞ্চিত অর্থ তারা আদৌ পাবেন কিনা— এই শঙ্কা তাদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফিরছে।
চা-শ্রমিক ভবিষ্য তহবিল নিয়ন্ত্রকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী চা-শ্রমিকদের বেতনের ৭.৫ শতাংশ কেটে রাখা হয়। এর সঙ্গে বাগান কর্তৃপক্ষ আরও ৭.৫ শতাংশ যোগ করে মোট ১৫ শতাংশ অর্থ তহবিলে জমা দেওয়ার কথা। শ্রমিক ও মালিক পক্ষের এই ১৫ শতাংশ জমার ওপর আরও ১৫ শতাংশ অর্থ প্রশাসনিক ব্যয় হিসেবে বাগান কর্তৃপক্ষকে একত্রে জমা দিতে হয়।
শ্রম অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিবকে চেয়ারম্যান করে গঠিত একটি ট্রাস্টি বোর্ড এই ভবিষ্য তহবিল পরিচালনা করে। এই বোর্ডে চা-বাগান মালিক পক্ষের তিনজন, চা স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন থেকে একজন, চা-শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে দুজন প্রতিনিধি এবং চা-শিল্পের বাইরে থেকে দুজন স্বতন্ত্র বিশিষ্ট ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। শ্রমসচিব ভবিষ্য তহবিল নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























