সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘মিশর রহস্য’ দিয়ে যখন রুপালি পর্দায় পা রেখেছিলেন, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন টলিউড এক নতুন লম্বা রেসের ঘোড়া পেল। কিন্তু সময়ের স্রোতে সেই বাঙালি মেয়ে ত্রিধা চৌধুরী আজ মুম্বাইয়ের পরিচিত মুখ। প্রকাশ ঝা-র ‘আশ্রম’ সিরিজে ববি দেওলের বিপরীতে সাহসী চরিত্রে অভিনয় করে তিনি এখন তুঙ্গে। সম্প্রতি মুম্বাইয়ের এক রেস্তোরাঁয় প্রথম আলোর সঙ্গে একান্ত আলাপে ত্রিধা শোনালেন তাঁর শুরুর সংগ্রাম, আক্ষেপ এবং সাফল্যের না বলা গল্প।

টলিউডের প্রতি অভিমান
কলকাতার মেয়ে হয়েও কেন বাংলা ছবিতে তাঁকে খুব একটা দেখা যায় না? এই প্রশ্নে ত্রিধার কণ্ঠে ঝরে পড়ল অভিমান। তিনি বলেন, “বাংলা দিয়েই আমার শুরু, কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুতে আমি এখানে তেমন সুযোগ পাইনি, যা মুম্বাই আমাকে দিয়েছে। মাঝে মাঝে খুব খারাপ লাগে—আমি তো বাংলারই মেয়ে, তবে কেন ভালো কাজ করার পরও ইন্ডাস্ট্রি আমাকে প্রাপ্য জায়গা দিল না?” তবে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুললেন না তিনি। তাঁর মতে, সৃজিতই তাঁকে শিখিয়েছেন যে অভিনয়ের ক্ষেত্রে ভাষা কোনো বাধা হতে পারে না।

মাইক্রোবায়োলজি থেকে লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন
পড়াশোনায় মেধাবী ত্রিধা মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে পড়তেন। কিন্তু ল্যাবরেটরির চেয়ে ক্যামেরার সামনের জগতই তাঁকে বেশি টানত। বাবার হাতে প্রথম ছবি তোলা থেকে শুরু করে স্কুলের নাটক—অভিনয়ের বীজটা ছোটবেলাতেই বপন করা হয়েছিল। ত্রিধা জানান, অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়া ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত।

মুম্বাইয়ের একাকীত্ব ও ‘আশ্রম’
কলকাতার মেয়ে যখন প্রথম মুম্বাই পৌঁছান, তখন পরিস্থিতি মোটেও সহজ ছিল না। ত্রিধার কথায়, “মুম্বাইয়ে সবার নিজস্ব গ্রুপ আছে। শুরুতে নিজেকে খুব একা লাগত। খুব একটা মিশুক ছিলাম না বলে অনেকে আমাকে অহংকারীও ভাবতেন।” তবে সব প্রতিকূলতা বদলে যায় ‘আশ্রম’ সিরিজের মাধ্যমে। প্রকাশ ঝা-র এই সিরিজ তাঁকে নতুন পরিচিতি দেয়। ববি দেওলের মতো বড় তারকার বিপরীতে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় নিয়ে শুরুতে সংকোচ থাকলেও ববি দেওলের সহযোগিতায় তা সহজ হয়ে ওঠে। ত্রিধা বলেন, “ববি স্যার খুব সহযোগী ছিলেন, আমাকে স্বচ্ছন্দ করে তুলেছিলেন।”
দক্ষিণ বনাম বলিউড
বর্তমানে দক্ষিণ ভারতীয় ছবি ও বলিউড—দুই মাধ্যমেই কাজ করছেন ত্রিধা। কাজের পার্থক্য নিয়ে তিনি বলেন, “দক্ষিণে কাজ খুব সময় মেনে এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে হয়। বলিউডে কিছুটা ঢিলেঢালা ভাব থাকলেও দুই জায়গাতেই শেখার অনেক কিছু আছে।”

ব্যক্তিগত জীবনের উপলব্ধি
সাক্ষাৎকারে নিজের অতীত সম্পর্ক নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা ছিলেন ত্রিধা। তাঁর আক্ষেপ, কেন তিনি কোনো সম্পর্কের জন্য নিজের ক্যারিয়ারে কম ফোকাস করেছিলেন। তিনি মনে করেন, এখন তাঁর আরও বেশি কাজ করা উচিত ছিল। তবে জীবনের এই চড়াই-উতরাই তাঁকে আরও শক্ত করেছে।
বর্তমানে হাতে বেশ কিছু কাজ নিয়ে ব্যস্ত ত্রিধা। তাঁর লক্ষ্য একটাই—সামনে আরও ভালো কাজ করা এবং সুযোগ পেলে আবারও নিজের মাতৃভাষা বাংলায় ফিরে আসা।
রিপোর্টারের নাম 

























