ঢাকা ০৩:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

অভিবাসন ও আশ্রয় প্রক্রিয়ায় ইইউর নতুন আইন: সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্ব ভাগাভাগি

দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্কের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তার অভিবাসন এবং আশ্রয় প্রক্রিয়ায় একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। নতুন ‘অ্যাসাইলাম ও মাইগ্রেশন প্যাক্ট’ গত ১২ জুন থেকে সব সদস্যরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এই নতুন প্যাক্টের মূল উদ্দেশ্য হলো ২০১৫ সালের মতো অনিয়মিত অভিবাসীদের গণ-আগমনের চাপ সামলানো, ইইউর বহিঃসীমান্তে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির ক্ষেত্রে একটি সুষম ও ন্যায়সঙ্গত ‘সংহতি ব্যবস্থা’ তৈরি করা।

নতুন নীতিমালার সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি দেখা যাবে ইউরোপের বহিঃসীমান্তগুলোতে। এখন থেকে কোনো বৈধ ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিট ছাড়া কেউ ইইউ সীমান্তে পৌঁছালে তাকে সরাসরি মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সর্বোচ্চ সাত দিন স্থায়ী এই প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর পরিচয়, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা করা হবে। এরপর আবেদনকারীদের দুটি আলাদা ট্র্যাকে ভাগ করা হবে।

যাদের আশ্রয় পাওয়ার সম্ভাবনা পরিসংখ্যানগতভাবে কম (যেমন নিরাপদ দেশ থেকে আসা নাগরিক) অথবা যারা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তাদের আবেদন সীমান্ত কেন্দ্রেই সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। আবেদন বাতিল হলে সেখান থেকেই তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। অন্যদিকে, যাদের আবেদনের শক্ত ভিত্তি রয়েছে, তারা মূল ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। তবে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সংশ্লিষ্ট দেশ সর্বোচ্চ ২০ মাস পর্যন্ত সময় নিতে পারবে।

নতুন নিয়মে ‘নিরাপদ তৃতীয় দেশ’ ধারণার পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে ইইউর কোনো সদস্যরাষ্ট্রের সঙ্গে যদি ইউরোপের বাইরের কোনো দেশের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি থাকে, তবে তারা আশ্রয়প্রার্থীদের সেই তৃতীয় দেশে পাঠিয়ে দিতে পারবে—এমনকি ওই দেশের সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থীর পূর্ব কোনো সম্পর্ক না থাকলেও। তবে একাকী থাকা অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া, যেসব দেশের নাগরিক নিজ দেশে ফেরত যেতে অস্বীকৃতি জানাবে, তাদের জন্য ইইউর বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবর্তন কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। একটি দেশে জারি হওয়া দেশত্যাগের নির্দেশ এখন পুরো ইইউ জুড়ে কার্যকর হবে। অভিবাসীদের তথ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ‘ইউরোড্যাক’ ডেটাবেজের পরিধি ব্যাপক বাড়ানো হয়েছে। আগে কেবল ১৪ বছরের বেশি বয়সীদের আঙুলের ছাপ নেওয়া হতো, এখন থেকে ৬ বছর বা তার বেশি বয়সী সব অনিয়মিত অভিবাসীর তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ: ৩০০ পদে আবেদনের সুযোগ

অভিবাসন ও আশ্রয় প্রক্রিয়ায় ইইউর নতুন আইন: সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্ব ভাগাভাগি

আপডেট সময় : ০২:০৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্কের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তার অভিবাসন এবং আশ্রয় প্রক্রিয়ায় একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। নতুন ‘অ্যাসাইলাম ও মাইগ্রেশন প্যাক্ট’ গত ১২ জুন থেকে সব সদস্যরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এই নতুন প্যাক্টের মূল উদ্দেশ্য হলো ২০১৫ সালের মতো অনিয়মিত অভিবাসীদের গণ-আগমনের চাপ সামলানো, ইইউর বহিঃসীমান্তে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির ক্ষেত্রে একটি সুষম ও ন্যায়সঙ্গত ‘সংহতি ব্যবস্থা’ তৈরি করা।

নতুন নীতিমালার সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি দেখা যাবে ইউরোপের বহিঃসীমান্তগুলোতে। এখন থেকে কোনো বৈধ ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিট ছাড়া কেউ ইইউ সীমান্তে পৌঁছালে তাকে সরাসরি মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সর্বোচ্চ সাত দিন স্থায়ী এই প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর পরিচয়, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা করা হবে। এরপর আবেদনকারীদের দুটি আলাদা ট্র্যাকে ভাগ করা হবে।

যাদের আশ্রয় পাওয়ার সম্ভাবনা পরিসংখ্যানগতভাবে কম (যেমন নিরাপদ দেশ থেকে আসা নাগরিক) অথবা যারা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তাদের আবেদন সীমান্ত কেন্দ্রেই সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। আবেদন বাতিল হলে সেখান থেকেই তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। অন্যদিকে, যাদের আবেদনের শক্ত ভিত্তি রয়েছে, তারা মূল ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। তবে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সংশ্লিষ্ট দেশ সর্বোচ্চ ২০ মাস পর্যন্ত সময় নিতে পারবে।

নতুন নিয়মে ‘নিরাপদ তৃতীয় দেশ’ ধারণার পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে ইইউর কোনো সদস্যরাষ্ট্রের সঙ্গে যদি ইউরোপের বাইরের কোনো দেশের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি থাকে, তবে তারা আশ্রয়প্রার্থীদের সেই তৃতীয় দেশে পাঠিয়ে দিতে পারবে—এমনকি ওই দেশের সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থীর পূর্ব কোনো সম্পর্ক না থাকলেও। তবে একাকী থাকা অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া, যেসব দেশের নাগরিক নিজ দেশে ফেরত যেতে অস্বীকৃতি জানাবে, তাদের জন্য ইইউর বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবর্তন কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। একটি দেশে জারি হওয়া দেশত্যাগের নির্দেশ এখন পুরো ইইউ জুড়ে কার্যকর হবে। অভিবাসীদের তথ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ‘ইউরোড্যাক’ ডেটাবেজের পরিধি ব্যাপক বাড়ানো হয়েছে। আগে কেবল ১৪ বছরের বেশি বয়সীদের আঙুলের ছাপ নেওয়া হতো, এখন থেকে ৬ বছর বা তার বেশি বয়সী সব অনিয়মিত অভিবাসীর তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।