ঢাকা ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

পদ্মার চরে বন্দুকধারীদের ত্রাসের রাজত্ব, চরম নিরাপত্তাহীনতায় এলাকাবাসী

রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়ার বিস্তীর্ণ পদ্মার চরাঞ্চল এখন আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গড়ে ওঠা ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধের ময়দানে পরিণত হয়েছে। বালুমহাল ও চর দখল এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর দাপটে পুরো অঞ্চল পরিণত হয়েছে এক আতঙ্কের জনপদে, যেখানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ।

দিনের আলোয় প্রকাশ্যে স্পিডবোটে অস্ত্রের মহড়া, ড্রোনের সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে গুলি এবং প্রকাশ্য চাঁদাবাজি এখন চরবাসীর নিত্যদিনের বাস্তবতা। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন পার করছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।

সম্প্রতি, গত মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তবর্তী পদ্মার চরজাজিরা এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন বালুমহালের ম্যানেজার আজিজুল হাকিম (৩৫)। তিনি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার হিজলি পাবনাপাড়া গ্রামের আব্দুল শেখের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকালে কয়েকটি স্পিডবোটে ছয়-সাতজন অস্ত্রধারী চর এলাকায় আসে। তাদের একটি স্পিডবোটের ওপর ড্রোন ক্যামেরা উড়তে দেখা যায়, যা ভুক্তভোগীর অবস্থান খোঁজ করছিল। এরপর এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে আজিজুলকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়।

ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম জানান, বাঘার হবিরচর এলাকায় বালুমহালকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে চরজাজিরা এলাকা থেকে একটি স্পিডবোটে আজিজুলের লাশ পাওয়া যায়, যার বাঁ চোখের ওপর গুলির চিহ্ন ছিল এবং গুলি মাথা ভেদ করে বেরিয়ে গেছে।

বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক জানান, প্রশাসনের কাছে পদ্মার চরাঞ্চলে সক্রিয় অন্তত ১১টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কাঁকন, মণ্ডল, টুকু, সাঈদ, লালচাঁদ, রাখি, শরীফ কাইগি, রাজ্জাক, চল্লিশ, বাহান্ন এবং সুখচাঁদ-নাহারুল বাহিনী। বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত নাম ‘কাঁকন বাহিনী’। হাসানুজ্জামান কাঁকন নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে এই বাহিনী রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট, নাটোরের লালপুর, পাবনার ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল, চাঁদাবাজি, স্পিডবোট ছিনতাই এবং সশস্ত্র মহড়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৮০০ কোটির স্বপ্ন, সৃজনশীল অর্থনীতির সামনে কত বাধা?

পদ্মার চরে বন্দুকধারীদের ত্রাসের রাজত্ব, চরম নিরাপত্তাহীনতায় এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়ার বিস্তীর্ণ পদ্মার চরাঞ্চল এখন আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গড়ে ওঠা ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধের ময়দানে পরিণত হয়েছে। বালুমহাল ও চর দখল এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর দাপটে পুরো অঞ্চল পরিণত হয়েছে এক আতঙ্কের জনপদে, যেখানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ।

দিনের আলোয় প্রকাশ্যে স্পিডবোটে অস্ত্রের মহড়া, ড্রোনের সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে গুলি এবং প্রকাশ্য চাঁদাবাজি এখন চরবাসীর নিত্যদিনের বাস্তবতা। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন পার করছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।

সম্প্রতি, গত মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তবর্তী পদ্মার চরজাজিরা এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন বালুমহালের ম্যানেজার আজিজুল হাকিম (৩৫)। তিনি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার হিজলি পাবনাপাড়া গ্রামের আব্দুল শেখের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকালে কয়েকটি স্পিডবোটে ছয়-সাতজন অস্ত্রধারী চর এলাকায় আসে। তাদের একটি স্পিডবোটের ওপর ড্রোন ক্যামেরা উড়তে দেখা যায়, যা ভুক্তভোগীর অবস্থান খোঁজ করছিল। এরপর এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে আজিজুলকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়।

ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম জানান, বাঘার হবিরচর এলাকায় বালুমহালকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে চরজাজিরা এলাকা থেকে একটি স্পিডবোটে আজিজুলের লাশ পাওয়া যায়, যার বাঁ চোখের ওপর গুলির চিহ্ন ছিল এবং গুলি মাথা ভেদ করে বেরিয়ে গেছে।

বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক জানান, প্রশাসনের কাছে পদ্মার চরাঞ্চলে সক্রিয় অন্তত ১১টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কাঁকন, মণ্ডল, টুকু, সাঈদ, লালচাঁদ, রাখি, শরীফ কাইগি, রাজ্জাক, চল্লিশ, বাহান্ন এবং সুখচাঁদ-নাহারুল বাহিনী। বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত নাম ‘কাঁকন বাহিনী’। হাসানুজ্জামান কাঁকন নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে এই বাহিনী রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট, নাটোরের লালপুর, পাবনার ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল, চাঁদাবাজি, স্পিডবোট ছিনতাই এবং সশস্ত্র মহড়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে।