রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের শীর্ষ দুই পদে, অর্থাৎ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে বেতন-ভাতা নির্ধারণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত এই দুই কর্মকর্তার জন্য মাসিক মোট ১৮ লাখ টাকার বেশি বেতন-ভাতার সুপারিশ করা হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস থেকে এই প্রস্তাব বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে চূড়ান্ত মতামতের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। গত ৭ এপ্রিল কাইজার সোহেল আহমেদ বিমানের এমডি ও সিইও এবং সৈয়দ মঈনউদ্দিন আহমেদ ডিএমডি হিসেবে নিয়োগ পান।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এমডি পদের জন্য আয়কর কর্তন-পরবর্তী ১০ লাখ টাকা এবং ডিএমডি পদের জন্য ৮ লাখ টাকা মাসিক প্যাকেজের সুপারিশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, প্রচলিত অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ও ভাতাও তারা পাবেন।
অতীতে বিমানের এমডি পদে সাধারণত সরকারের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হতো। তখন তাদের বেতন কাঠামো প্রচলিত সরকারি বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকত। তবে বিমান যেহেতু একটি কোম্পানি, তাই এর জন্য পৃথক বেতন কাঠামো নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে।
বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে দক্ষ ব্যক্তির হাতে দায়িত্ব অর্পণের আলোচনা দীর্ঘদিনের। এর আগে ২০১৩ সালের ১৮ মার্চ ব্রিটিশ নাগরিক কেভিন জন স্টিলকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি মাসে প্রায় ১৯ লাখ টাকা বেতন, পাঁচতারকা হোটেলে থাকা এবং অন্যান্য সুবিধা পেতেন। দুই বছরের মধ্যে বিমানকে লাভজনক করার ঘোষণা দিয়ে দায়িত্ব নিলেও তিনি আরও লোকসানে ফেলে এক বছর পর চাকরি ছেড়ে চলে যান।
বর্তমান নিয়োগপ্রাপ্ত এমডি কাইজার সোহেল আহমেদ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একজন কর্মকর্তা ছিলেন এবং পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। অন্যদিকে, নতুন ডিএমডি সৈয়দ মঈনউদ্দিন আহমেদের খোদ বিমানেই একসময় চাকরির অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তিনি বহু প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের বেতন-ভাতা দ্রুত নির্ধারণের বিষয়ে এখন উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
রিপোর্টারের নাম 



















