ভারি বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল ও বাজার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে নদীর পানি বেড়ে ঝিনাইগাতী সদর বাজারসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রবেশ করে। এতে বাজারের অনেক দোকানপাটে পানি ঢুকে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। একইসঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও ঢলের পানি ঢুকে পড়েছে। আকস্মিক এই ঢলে এলাকার অনেক রাস্তাঘাটও তলিয়ে গেছে। তবে এই ঢলের কারণে সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহররক্ষা বাঁধের অভাব প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে জলমগ্নতার প্রধান কারণ। সামান্য বৃষ্টি বা পানি বাড়লেই ঝিনাইগাতী সদর বাজারের সড়ক, দোকানপাট এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাজারের বিভিন্ন অংশে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিত্যদিনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় তাদের মালামাল রক্ষায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এদিকে, নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর বাঁতকুচি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকায় পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা নাদরুজ্জামান ইমন জানিয়েছেন, শনিবার সকালে মহারশি নদীর দক্ষিণাংশের তীর উপচে প্রবল বেগে ঢলের পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির চাপ কিছুটা কমে এসেছে। তিনি আরও জানান, মহারশি বাঁধের যে অংশের কাজ চলছিল, ঢলের পানিতে তার কোনো ক্ষতি হয়নি।
শেরপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী জানান, শনিবার শেরপুর পয়েন্টে ২৪ দশমিক ৫০ মিলিমিটার, নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৩৫ মিলিমিটার এবং নাকুগাঁও পয়েন্টে ১৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আমিন বলেছেন, সকালের দিকে পাহাড়ি ঢলের চাপ বেশি থাকলেও পরে তা কমতে শুরু করে। ঝিনাইগাতী বাজারের ড্রেনের সঙ্গে মহারশি নদীর সংযোগ থাকায় শনিবার সকালে পানি উঠেছিল, পরে তা নেমে গেছে।
এ বিষয়ে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, মহারশি নদীতে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য তিনি জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন এবং দ্রুত এর বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 























