ঢাকা ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদের উদ্বোধনীতে শব্দ বিভ্রাট: নাশকতার আশঙ্কায় তদন্ত কমিটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের উদ্বোধনী অধিবেশনে শব্দযন্ত্রের বিভ্রাটের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই ঘটনা কোনো নাশকতার অংশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে আগামী ৩ এপ্রিলের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

শনিবার সংসদ কমিটির এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনে শব্দযন্ত্রের সমস্যার কারণে অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখতে হয়। পরের দিনের বৈঠকেও হেডফোন ও সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।

সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি ধারণা করছেন, এটি আসলে একটি নাশকতার ঘটনা হতে পারে। সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বুয়েট থেকে বিশেষজ্ঞ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চিফ হুইপ আরও জানান, তদন্ত কমিটি দুটি প্রধান বিষয় খতিয়ে দেখবে: প্রথমত, কোনো নাশকতার ঘটনা ঘটেছে কি না; এবং দ্বিতীয়ত, সাউন্ড সিস্টেমের প্রকৃত সমস্যা কী এবং এর স্থায়ী সমাধান কীভাবে করা যায়।

হেডফোন সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ‘হেডফোনের ব্যাপারটা নিয়ে সকলের অভিযোগ, আমার নিজেরও অভিযোগ। এতবড় ঢাউস একটা হেডফোন মাথায় দিয়ে, পার্লামেন্ট শোনা যায় না। মাথা গরম হয়ে যায় কান গরম হয়ে যায়। এটা চেঞ্জ হবে।’

বৈঠকে সংসদ সদস্যদের আবাসন ও চিকিৎসা সুবিধা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, মোটামুটি সব সংসদ সদস্যই আবাসন সুবিধা পাবেন। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, চিফ হুইপ, হুইপ ও স্পিকারদের জন্য আলাদা বাসভবনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাকিদের সবার আবাসনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা ১০ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন করে বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। আগামী ৩০ মার্চ কমিটি আবার বৈঠকে বসবে।

৫ আগস্টের পর সংস্কারের জন্য অনেক সময় পাওয়া সত্ত্বেও কেন সমস্যার সমাধান করা যায়নি— এমন প্রশ্নের উত্তরে চিফ হুইপ বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশে নির্বাচন হবে না এমন একটি আবহাওয়া তৈরি করা হয়েছিল। এরপর নানা রকম আবহাওয়া তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনের দিনেও আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল নির্বাচন কি ফাইনালি টিকবে? আমি বলেছি, দেখা যাক, গায়েবের মালিক আল্লাহ। আমরা বলতে পারব না, চেষ্টা করি যাতে টিকে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের শান্তি প্রস্তাবের জবাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে

ত্রয়োদশ সংসদের উদ্বোধনীতে শব্দ বিভ্রাট: নাশকতার আশঙ্কায় তদন্ত কমিটি

আপডেট সময় : ০৪:০৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের উদ্বোধনী অধিবেশনে শব্দযন্ত্রের বিভ্রাটের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই ঘটনা কোনো নাশকতার অংশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে আগামী ৩ এপ্রিলের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

শনিবার সংসদ কমিটির এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনে শব্দযন্ত্রের সমস্যার কারণে অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখতে হয়। পরের দিনের বৈঠকেও হেডফোন ও সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।

সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি ধারণা করছেন, এটি আসলে একটি নাশকতার ঘটনা হতে পারে। সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বুয়েট থেকে বিশেষজ্ঞ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চিফ হুইপ আরও জানান, তদন্ত কমিটি দুটি প্রধান বিষয় খতিয়ে দেখবে: প্রথমত, কোনো নাশকতার ঘটনা ঘটেছে কি না; এবং দ্বিতীয়ত, সাউন্ড সিস্টেমের প্রকৃত সমস্যা কী এবং এর স্থায়ী সমাধান কীভাবে করা যায়।

হেডফোন সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ‘হেডফোনের ব্যাপারটা নিয়ে সকলের অভিযোগ, আমার নিজেরও অভিযোগ। এতবড় ঢাউস একটা হেডফোন মাথায় দিয়ে, পার্লামেন্ট শোনা যায় না। মাথা গরম হয়ে যায় কান গরম হয়ে যায়। এটা চেঞ্জ হবে।’

বৈঠকে সংসদ সদস্যদের আবাসন ও চিকিৎসা সুবিধা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, মোটামুটি সব সংসদ সদস্যই আবাসন সুবিধা পাবেন। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, চিফ হুইপ, হুইপ ও স্পিকারদের জন্য আলাদা বাসভবনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাকিদের সবার আবাসনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা ১০ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন করে বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। আগামী ৩০ মার্চ কমিটি আবার বৈঠকে বসবে।

৫ আগস্টের পর সংস্কারের জন্য অনেক সময় পাওয়া সত্ত্বেও কেন সমস্যার সমাধান করা যায়নি— এমন প্রশ্নের উত্তরে চিফ হুইপ বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশে নির্বাচন হবে না এমন একটি আবহাওয়া তৈরি করা হয়েছিল। এরপর নানা রকম আবহাওয়া তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনের দিনেও আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল নির্বাচন কি ফাইনালি টিকবে? আমি বলেছি, দেখা যাক, গায়েবের মালিক আল্লাহ। আমরা বলতে পারব না, চেষ্টা করি যাতে টিকে।