সেলিমের মনে প্রায়শই এক অতৃপ্তির সুর বেজে ওঠে; তার বাসনাগুলো যেন অপূর্ণই থেকে যাচ্ছে। জীবনের সায়াহ্নে এসেও তার উদ্দাম যৌবনের সোনালি স্বপ্নগুলো সুযোগের অভাব আর অপ্রকাশের দুর্ভেদ্য প্রাচীর ভেদ করতে পারেনি, যার ফলে শখের ইচ্ছেরা সুপ্তাবস্থায় শুকিয়ে মরে যেতে বসেছে। তরুণ বয়সে তুলির সঙ্গে ঘটে যাওয়া এক তিক্ত অভিজ্ঞতা তাকে কোনো মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে বাধা দিয়েছে, যা তার জীবনে এক বড় অপূর্ণতা হিসেবে রয়ে গেছে।
ছাত্রজীবনে সেলিম বরাবরই ছিল লাজুক ও গোবেচারা। বর্তমান যুগে যেখানে সব ছেলে-মেয়েই অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও খোলামেলা, সেখানে এমন নিরীহ ছেলেদের মেয়েরা তেমন পছন্দ করত না। সেলিম ছিল ঠিক তেমনই একজন, তাই তার জীবনে কোনো কিশোরী বা তরুণীর আনাগোনা ছিল না।
ছাত্রজীবন শেষে সেলিমকে বেশিদিন বেকার থাকতে হয়নি। গ্রামের এক মাদ্রাসায় খণ্ডকালীন শিক্ষকতার পর, একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সে সরকারি চাকরি পেয়ে যায়। যদিও চাকরিটি তার যোগ্যতা অনুযায়ী মনমতো হয়নি, তবুও নুন-রুটির সংস্থানের জন্য তাকে তা করতে হয়েছে।
সেলিমের কলেজজীবন কেটেছিল এক লজিং বাড়িতে। উপজেলা সদরের কাছে এক গ্রামের বাড়িতে থেকে সে দুটি ছেলে ও একটি মেয়েকে পড়াত। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মেয়েটি ছিল বড়, অষ্টম শ্রেণি পাশ করে নবম শ্রেণিতে পা রেখেছিল। তখন তার শারীরিক গঠন স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। সেলিম যদিও তার বয়সানুপাতে তুলির শারীরিক সৌন্দর্যের দিকে আকৃষ্ট হতো, কিন্তু সে সবসময়ই তা কঠোরভাবে দমন করত।
সেলিম থাকত বাড়ির পেছনের পুকুরপাড়ের একটি দোচালা খড়ের ঘরে। উত্তর পাশের চৌকিতে থাকত বছরSo-me kamla, আর দক্ষিণ দিকে খিড়কির পাশে নিজের চৌকিতে থাকত সেলিম। চৌকির পাশে একটি টেবিল ছিল, আর কেরোসিনের টিমটিম হ্যারিকেনের আলোয় গভীর রাত পর্যন্ত সেলিমের পড়ার শব্দ শোনা যেত।
এক মাঘ মাসের তীব্র শীতে, গ্রামের পাশের একটি বিলে একটি পগার (ছোট জলাধার) খনন করা হয়েছিল। সেই পগারে নানা ধরনের লোভনীয় মাছ পাওয়া যেত। সেলিমকেও মাছ ধরতে যেতে হতো। গ্রামের ছেলে হিসেবে সে মাছ ধরায় বেশ দক্ষ ছিল। অন্যান্য মাছের সঙ্গে বড় আকারের কয়েকটি শোল মাছও সেখানে দেখা গিয়েছিল। এমন সময়, একটি বিশালাকার শোল মাছ ধরতে গিয়ে সেলিম একটি আগুন-রাঙা শিং মাছের কাঁটার আঘাতে কুঁকড়ে যায়। তুলি, যে তখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে ছিল, সেলিমের অবস্থা দেখে জিজ্ঞেস করে—কী হয়েছে তোমার, সেলিম? উত্তরে সেলিম জানায়, ‘শিঙের কাঁটা বিঁধেছে। ব্যথা করছে।’ এই বলে সেলিম পগার থেকে উঠে আসে।
রিপোর্টারের নাম 
























