ঢাকা ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী ঈদ উৎসব: ঐতিহ্য ও আনন্দের মেলবন্ধন

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা এক বর্ণাঢ্য ও প্রাণবন্ত উৎসবে মেতে উঠেছিল। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি এবং চার দেয়ালের গণ্ডি পেরিয়ে ঈদের নির্মল আনন্দকে জনপরিসরে ফিরিয়ে আনতে নাগরিক উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী এক বিশেষ ঈদ উৎসবের আয়োজন করা হয়। চাঁদরাতে মেহেদি উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, ঈদের দিন জমকালো ঈদমিছিল এবং ঈদের পরদিন ঘুড়ি উৎসব—এই তিন দিনের আনন্দময় আয়োজনে ঢাকাবাসী সাক্ষী হয়েছে বাংলাদেশের হারানো ঈদ ঐতিহ্য ও উৎসবের নবজাগরণের।

উৎসবের সূচনা হয়েছিল এক আকর্ষণীয় ও আনন্দময় আয়োজনের মধ্য দিয়ে। চাঁদরাতে, জুমার নামাজের পর, ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে ঢাকার রাজপথে শুরু হয় এক প্রতীকী ‘শাহি এলান’। ঢোল বাজিয়ে নগরবাসীকে তিন দিনের এই আনন্দযাত্রায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং শুভেচ্ছা সংবলিত ঈদকার্ড বিতরণ করা হয়।

নগর পরিক্রমা শেষে, ইফতারের পর সন্ধ্যায় ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরের উন্মুক্ত মঞ্চে শুরু হয় মেহেদি উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। সেখানে সারিবদ্ধভাবে বসা মেহেদি শিল্পীরা আগতদের হাতে নিপুণ হাতে মেহেদি এঁকে দেন। পাশেই মঞ্চে তখন বেজে চলে ঈদের গান, কাওয়ালি এবং দেশাত্মবোধক গান। উৎসবে মেহেদি দিতে আসা দর্শনার্থীরা এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতাকে ‘অসাধারণ’ বলে অভিহিত করেন, যেখানে তারা শত শত মানুষের মাঝে খোলা আকাশের নিচে সুরের মূর্ছনায় নিজেদের হাত রাঙানোর সুযোগ পান। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরো বাড়ে এবং মধ্যরাত পর্যন্ত ‘সিলসিলা’ গানের দল তাদের পরিবেশনার মাধ্যমে উৎসবের মঞ্চ মাতিয়ে রাখে।

ঈদের দিন সকালে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত শেষে এক বর্ণাঢ্য ঈদমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও শাহবাগ মোড় ঘুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে শেষ হওয়া এই মিছিলটি বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের এক সুন্দর প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। সুসজ্জিত হাতি, রাজকীয় ঘোড়া, নান্দনিক ঘোড়ার গাড়ি, বাদক দল এবং সার্কাস পার্টির বিচিত্র পরিবেশনা মিছিলটিকে এক রাজকীয় ও আভিজাত্যপূর্ণ রূপ দেয়। রণপা ও জোকারদের উপস্থিতি মিছিলে যোগ করে বাড়তি আনন্দ, বিশেষ করে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। অংশগ্রহণকারীরা ‘ঈদ মোবারক’, ‘বাংলাদেশের আজাদি, ওসমান হাদি’ এবং ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়, যা উৎসবের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের শান্তি প্রস্তাবের জবাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে

রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী ঈদ উৎসব: ঐতিহ্য ও আনন্দের মেলবন্ধন

আপডেট সময় : ০১:৫৩:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা এক বর্ণাঢ্য ও প্রাণবন্ত উৎসবে মেতে উঠেছিল। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি এবং চার দেয়ালের গণ্ডি পেরিয়ে ঈদের নির্মল আনন্দকে জনপরিসরে ফিরিয়ে আনতে নাগরিক উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী এক বিশেষ ঈদ উৎসবের আয়োজন করা হয়। চাঁদরাতে মেহেদি উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, ঈদের দিন জমকালো ঈদমিছিল এবং ঈদের পরদিন ঘুড়ি উৎসব—এই তিন দিনের আনন্দময় আয়োজনে ঢাকাবাসী সাক্ষী হয়েছে বাংলাদেশের হারানো ঈদ ঐতিহ্য ও উৎসবের নবজাগরণের।

উৎসবের সূচনা হয়েছিল এক আকর্ষণীয় ও আনন্দময় আয়োজনের মধ্য দিয়ে। চাঁদরাতে, জুমার নামাজের পর, ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে ঢাকার রাজপথে শুরু হয় এক প্রতীকী ‘শাহি এলান’। ঢোল বাজিয়ে নগরবাসীকে তিন দিনের এই আনন্দযাত্রায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং শুভেচ্ছা সংবলিত ঈদকার্ড বিতরণ করা হয়।

নগর পরিক্রমা শেষে, ইফতারের পর সন্ধ্যায় ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরের উন্মুক্ত মঞ্চে শুরু হয় মেহেদি উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। সেখানে সারিবদ্ধভাবে বসা মেহেদি শিল্পীরা আগতদের হাতে নিপুণ হাতে মেহেদি এঁকে দেন। পাশেই মঞ্চে তখন বেজে চলে ঈদের গান, কাওয়ালি এবং দেশাত্মবোধক গান। উৎসবে মেহেদি দিতে আসা দর্শনার্থীরা এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতাকে ‘অসাধারণ’ বলে অভিহিত করেন, যেখানে তারা শত শত মানুষের মাঝে খোলা আকাশের নিচে সুরের মূর্ছনায় নিজেদের হাত রাঙানোর সুযোগ পান। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরো বাড়ে এবং মধ্যরাত পর্যন্ত ‘সিলসিলা’ গানের দল তাদের পরিবেশনার মাধ্যমে উৎসবের মঞ্চ মাতিয়ে রাখে।

ঈদের দিন সকালে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত শেষে এক বর্ণাঢ্য ঈদমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও শাহবাগ মোড় ঘুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে শেষ হওয়া এই মিছিলটি বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের এক সুন্দর প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। সুসজ্জিত হাতি, রাজকীয় ঘোড়া, নান্দনিক ঘোড়ার গাড়ি, বাদক দল এবং সার্কাস পার্টির বিচিত্র পরিবেশনা মিছিলটিকে এক রাজকীয় ও আভিজাত্যপূর্ণ রূপ দেয়। রণপা ও জোকারদের উপস্থিতি মিছিলে যোগ করে বাড়তি আনন্দ, বিশেষ করে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। অংশগ্রহণকারীরা ‘ঈদ মোবারক’, ‘বাংলাদেশের আজাদি, ওসমান হাদি’ এবং ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়, যা উৎসবের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।