ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

নদী দখল ও দূষণ রোধে কঠোর হচ্ছে আইন, মিলবে দ্বিগুণ শাস্তি

নদী, খাল ও সমুদ্র উপকূল রক্ষায় সরকার আইনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। এই সংশোধনের ফলে আগামীতে অবৈধভাবে নদীর জায়গা দখল এবং দখল উদ্ধারে সরকারি কাজে বাধা দিলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং অপরাধীর শাস্তি দ্বিগুণ হবে।

একইভাবে, অবৈধভাবে বালু, পাথর বা মাটি উত্তোলন, অবৈধ দখল, দূষণ এবং নাব্য বিনষ্ট করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। এছাড়াও, দেশের সকল নদীকে আইনি ব্যক্তি, আইনি সত্তা এবং জীবন্ত সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়ায় এই সকল বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্টদের আগামী ১৬ এপ্রিলের মধ্যে খসড়া আইনের উপর তাদের মতামত জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে এটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়াটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নতুন আইনে জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনকে একটি স্বাধীন ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কমিশন চাইলে সরকারি-বেসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের নদী দখল ও দূষণ সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত, অনুসন্ধান ও পরিদর্শন করতে পারবে। এছাড়াও, অবৈধ দখল উচ্ছেদে ব্যবস্থা নিতে এবং মামলা দায়ের ও তদারক করতে পারবে। খসড়া আইনে কমিশনকে নদী, খাল ও উপকূলের আইনগত অভিভাবক হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাবও রয়েছে।

খসড়া প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে যে, নদী ভরাট বা দখল, শিল্পবর্জ্য ফেলা, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, বালু বা মাটি উত্তোলন, নদীর প্রবাহ পরিবর্তন—এই সকল কর্মকাণ্ডকে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। একই অপরাধ বারবার করলে শাস্তি দ্বিগুণ হবে।

আইনটি কার্যকর হলে, আগামীতে নদী বা খাল সংলগ্ন যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার আগে কমিশনের অনাপত্তি (এনওসি) নিতে হবে। পূর্বানুমোদিত প্রকল্প সংশোধন বা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও এই অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইনে নতুনভাবে ‘সংকটাপন্ন নদী ও খাল এলাকা’ ঘোষণা করার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো নদী বা খাল দখল, দূষণ বা নাব্য হ্রাসের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে কমিশন তা ঘোষণা করতে পারবে এবং সংশ্লিষ্টদের জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারি করতে পারবে।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কারণে নদী বা পরিবেশের ক্ষতি হলে, কমিশন ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারবে অথবা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের শান্তি প্রস্তাবের জবাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে

নদী দখল ও দূষণ রোধে কঠোর হচ্ছে আইন, মিলবে দ্বিগুণ শাস্তি

আপডেট সময় : ১০:২৬:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

নদী, খাল ও সমুদ্র উপকূল রক্ষায় সরকার আইনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। এই সংশোধনের ফলে আগামীতে অবৈধভাবে নদীর জায়গা দখল এবং দখল উদ্ধারে সরকারি কাজে বাধা দিলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং অপরাধীর শাস্তি দ্বিগুণ হবে।

একইভাবে, অবৈধভাবে বালু, পাথর বা মাটি উত্তোলন, অবৈধ দখল, দূষণ এবং নাব্য বিনষ্ট করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। এছাড়াও, দেশের সকল নদীকে আইনি ব্যক্তি, আইনি সত্তা এবং জীবন্ত সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়ায় এই সকল বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্টদের আগামী ১৬ এপ্রিলের মধ্যে খসড়া আইনের উপর তাদের মতামত জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে এটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়াটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নতুন আইনে জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনকে একটি স্বাধীন ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কমিশন চাইলে সরকারি-বেসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের নদী দখল ও দূষণ সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত, অনুসন্ধান ও পরিদর্শন করতে পারবে। এছাড়াও, অবৈধ দখল উচ্ছেদে ব্যবস্থা নিতে এবং মামলা দায়ের ও তদারক করতে পারবে। খসড়া আইনে কমিশনকে নদী, খাল ও উপকূলের আইনগত অভিভাবক হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাবও রয়েছে।

খসড়া প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে যে, নদী ভরাট বা দখল, শিল্পবর্জ্য ফেলা, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, বালু বা মাটি উত্তোলন, নদীর প্রবাহ পরিবর্তন—এই সকল কর্মকাণ্ডকে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। একই অপরাধ বারবার করলে শাস্তি দ্বিগুণ হবে।

আইনটি কার্যকর হলে, আগামীতে নদী বা খাল সংলগ্ন যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার আগে কমিশনের অনাপত্তি (এনওসি) নিতে হবে। পূর্বানুমোদিত প্রকল্প সংশোধন বা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও এই অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইনে নতুনভাবে ‘সংকটাপন্ন নদী ও খাল এলাকা’ ঘোষণা করার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো নদী বা খাল দখল, দূষণ বা নাব্য হ্রাসের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে কমিশন তা ঘোষণা করতে পারবে এবং সংশ্লিষ্টদের জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারি করতে পারবে।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কারণে নদী বা পরিবেশের ক্ষতি হলে, কমিশন ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারবে অথবা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে।