ঢাকা ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

মর্মান্তিক ঈদযাত্রা: শত শত মানুষের প্রাণহানি, অব্যবস্থাপনার চিত্র স্পষ্ট

ঈদ মানেই আনন্দ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার উৎসব। এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রতি বছর কোটি কোটি মানুষ নিজ বাড়িতে ফেরে। বর্তমানে সেই ঈদযাত্রা শেষ করে কর্মস্থলে ফেরার পালা চলছে। তবে এবারের ঈদযাত্রা ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, ঈদের আগে ও পরে মাত্র ১৩ দিনে তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৯ শতাধিক। এর মধ্যেই শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যারা একটি পরিবারের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঈদের ফিরতি যাত্রা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবারের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বিত এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবকেই এসব প্রাণহানির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে, অব্যবস্থাপনার কারণে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনাকে ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, কেবল ছুটি বৃদ্ধি নয়, বরং ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সুদূরপ্রসারী ব্যবস্থাপনার উপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি, মহাসড়কে যানজট এবং ভাড়ার নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণে নতুন সরকারের ব্যর্থতাও অনেকের চোখে পড়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৪ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ১৩ দিনে ৩০৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ৩০৯ জন নিহত এবং ৯০২ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, গত ১৭ থেকে ২৬ মার্চ রাত ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে ৩৪২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, এতে ২৭৯ জন নিহত এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

উভয় সংগঠনের মতে, এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ফিরতি যাত্রা শেষ হলে এই সংখ্যা গত বছরের তুলনায় আরও বাড়বে। রোড সেফটির তথ্যমতে, ২০২২ সালে ঈদযাত্রায় ৪৪৩ জন, ২০২৩ সালে ৩২৮ জন, ২০২৪ সালে ৪৩৭ জন এবং ২০২৫ সালে ৩২২ জন নিহত হয়েছিলেন। যাত্রীকল্যাণ সমিতির তথ্যমতে, ২০২২ সালে ৪৪৩ জন, ২০২৩ সালে ৩২৮ জন, ২০২৪ সালে ৪৩৮ জন এবং ২০২৫ সালে ১৫ দিনে ৩৫২ জন নিহত হন।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এ বছর ঈদযাত্রা শুরু হয়েছিল গত ১৩ মার্চ থেকে। প্রথম দিকে যাত্রীর চাপ কম থাকায় সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রা কিছুটা স্বস্তিদায়ক ছিল। কিন্তু ১৫ মার্চ থেকে টানা সাতদিনের সরকারি ছুটি শুরু হলে ঘরমুখী মানুষের ঢল নামে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে মৃত্যুর মিছিলও। এর মধ্যে মাত্র একদিনে ৯টি জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জন প্রাণ হারান। ২৩ মার্চ সরকারি ছুটি শেষ হলেও মৃত্যুর মিছিল থামেনি, বরং তা অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের শান্তি প্রস্তাবের জবাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে

মর্মান্তিক ঈদযাত্রা: শত শত মানুষের প্রাণহানি, অব্যবস্থাপনার চিত্র স্পষ্ট

আপডেট সময় : ০৭:২০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ঈদ মানেই আনন্দ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার উৎসব। এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রতি বছর কোটি কোটি মানুষ নিজ বাড়িতে ফেরে। বর্তমানে সেই ঈদযাত্রা শেষ করে কর্মস্থলে ফেরার পালা চলছে। তবে এবারের ঈদযাত্রা ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, ঈদের আগে ও পরে মাত্র ১৩ দিনে তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৯ শতাধিক। এর মধ্যেই শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যারা একটি পরিবারের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঈদের ফিরতি যাত্রা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবারের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বিত এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবকেই এসব প্রাণহানির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে, অব্যবস্থাপনার কারণে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনাকে ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, কেবল ছুটি বৃদ্ধি নয়, বরং ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সুদূরপ্রসারী ব্যবস্থাপনার উপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি, মহাসড়কে যানজট এবং ভাড়ার নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণে নতুন সরকারের ব্যর্থতাও অনেকের চোখে পড়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৪ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ১৩ দিনে ৩০৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ৩০৯ জন নিহত এবং ৯০২ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, গত ১৭ থেকে ২৬ মার্চ রাত ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে ৩৪২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, এতে ২৭৯ জন নিহত এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

উভয় সংগঠনের মতে, এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ফিরতি যাত্রা শেষ হলে এই সংখ্যা গত বছরের তুলনায় আরও বাড়বে। রোড সেফটির তথ্যমতে, ২০২২ সালে ঈদযাত্রায় ৪৪৩ জন, ২০২৩ সালে ৩২৮ জন, ২০২৪ সালে ৪৩৭ জন এবং ২০২৫ সালে ৩২২ জন নিহত হয়েছিলেন। যাত্রীকল্যাণ সমিতির তথ্যমতে, ২০২২ সালে ৪৪৩ জন, ২০২৩ সালে ৩২৮ জন, ২০২৪ সালে ৪৩৮ জন এবং ২০২৫ সালে ১৫ দিনে ৩৫২ জন নিহত হন।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এ বছর ঈদযাত্রা শুরু হয়েছিল গত ১৩ মার্চ থেকে। প্রথম দিকে যাত্রীর চাপ কম থাকায় সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রা কিছুটা স্বস্তিদায়ক ছিল। কিন্তু ১৫ মার্চ থেকে টানা সাতদিনের সরকারি ছুটি শুরু হলে ঘরমুখী মানুষের ঢল নামে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে মৃত্যুর মিছিলও। এর মধ্যে মাত্র একদিনে ৯টি জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জন প্রাণ হারান। ২৩ মার্চ সরকারি ছুটি শেষ হলেও মৃত্যুর মিছিল থামেনি, বরং তা অব্যাহত রয়েছে।