ঢাকা ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

পল্লবীতে যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যা: দুই শুটার গ্রেপ্তার, চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন

রাজধানীর পল্লবীতে প্রকাশ্য দিবালোকে দোকানে ঢুকে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে র‍্যাব। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং মিরপুর এলাকার অপরাধ জগতের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেই এই সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেওয়া দুই পেশাদার শুটারকে গ্রেপ্তারের পর চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. রাশেদ ওরফে লোপন এবং জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লু।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাজধানীর রূপনগরের ইস্টার্ন হাউজিং এবং উত্তরার দিয়াবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৪। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি রিভলবার ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (২৭ মার্চ) মিরপুরে র‍্যাব-৪ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়ন কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন কবির।

গত ১৭ নভেম্বর মিরপুর-১২ নম্বরের ‘বিক্রমপুর স্যানিটারি ও হার্ডওয়্যার’ দোকানে বসে থাকা অবস্থায় গোলাম কিবরিয়ার উপর হামলা চালানো হয়। হেলমেট পরা একদল সন্ত্রাসী দোকানে ঢুকে তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি চালায়। মৃত্যু নিশ্চিত করে পালানোর সময় সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষের ওপরও এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে, যার ফলে একজন রিকশাচালক গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে র‍্যাব জানতে পেরেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মিরপুরের কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী মশিউর রহমান ওরফে মশি। পল্লবী ও মিরপুর এলাকার ঝুট ব্যবসা, ডেভেলপার কোম্পানির হাউজিং প্রজেক্ট এবং ফুটপাত থেকে আদায় করা চাঁদাবাজির পথে কিবরিয়া একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এই বাধা দূর করতেই মশি তার পেশাদার কিলার বাহিনীকে বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে কিবরিয়াকে হত্যার দায়িত্ব দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে কিলিং মিশনে সব মিলিয়ে ৬ থেকে ৭ জন অংশ নিয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের পর শুটার লোপন ও কাল্লু এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায় এবং আইনশৃঙ্খলার চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের শান্তি প্রস্তাবের জবাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে

পল্লবীতে যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যা: দুই শুটার গ্রেপ্তার, চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন

আপডেট সময় : ১১:০৫:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে প্রকাশ্য দিবালোকে দোকানে ঢুকে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে র‍্যাব। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং মিরপুর এলাকার অপরাধ জগতের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেই এই সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেওয়া দুই পেশাদার শুটারকে গ্রেপ্তারের পর চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. রাশেদ ওরফে লোপন এবং জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লু।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাজধানীর রূপনগরের ইস্টার্ন হাউজিং এবং উত্তরার দিয়াবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৪। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি রিভলবার ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (২৭ মার্চ) মিরপুরে র‍্যাব-৪ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়ন কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন কবির।

গত ১৭ নভেম্বর মিরপুর-১২ নম্বরের ‘বিক্রমপুর স্যানিটারি ও হার্ডওয়্যার’ দোকানে বসে থাকা অবস্থায় গোলাম কিবরিয়ার উপর হামলা চালানো হয়। হেলমেট পরা একদল সন্ত্রাসী দোকানে ঢুকে তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি চালায়। মৃত্যু নিশ্চিত করে পালানোর সময় সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষের ওপরও এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে, যার ফলে একজন রিকশাচালক গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে র‍্যাব জানতে পেরেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মিরপুরের কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী মশিউর রহমান ওরফে মশি। পল্লবী ও মিরপুর এলাকার ঝুট ব্যবসা, ডেভেলপার কোম্পানির হাউজিং প্রজেক্ট এবং ফুটপাত থেকে আদায় করা চাঁদাবাজির পথে কিবরিয়া একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এই বাধা দূর করতেই মশি তার পেশাদার কিলার বাহিনীকে বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে কিবরিয়াকে হত্যার দায়িত্ব দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে কিলিং মিশনে সব মিলিয়ে ৬ থেকে ৭ জন অংশ নিয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের পর শুটার লোপন ও কাল্লু এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায় এবং আইনশৃঙ্খলার চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল।