ঢাকা ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

সাংবাদিককে ঢামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা: জীবন নিয়ে টানাটানি

গাজীপুরের বড়বাড়ী এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত আমার দেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ইমরান হোসেনের (২৩) শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহআলীতে বোনের বাসায় বিশ্রামরত অবস্থায় তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।

গত বুধবার এই দুর্ঘটনা ঘটে। এরপর ইমরানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নামমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ইমরানের পরিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য অনুরোধ করলেও কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তা আমলে নেননি। দুর্ঘটনার পরপরই ইমরানের মাথায় তীব্র রক্তপাত শুরু হয় এবং তিনি কাঁধে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করতে থাকেন।

গতকাল তার অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে পুনরায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এক্স-রে করার পর চিকিৎসকরা জানান, তার কাঁধের হাড় ভেঙে গেছে এবং জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে ভর্তি করতে রাজি হচ্ছিলেন না। বারবার তারা পরিবারকে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে ভর্তির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালান এবং অনেক টালবাহানার পর অবশেষে ঢামেক কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি করায়। পরিবার ইমরানকে নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, কারণ তার মাথা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আসাদুজ্জামানকে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, গতকাল সকালে ইমরানের বোনের বাসায় মিলিটারি পুলিশের দুই সদস্য হাসিব ও সুমন যান। এ সময় ইমরানের শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকা সত্ত্বেও তারা ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে তার কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ জানতে চান। ইমরান কথা বলতে পারছিলেন না। পরিবারের সদস্যদের বাধার মুখে তারা সেখান থেকে ফিরে আসেন। তারা ইমরানের সুষ্ঠু চিকিৎসার জন্য মিলিটারি পুলিশের কাছে দাবি জানান এবং পরিবারের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর আশ্বাস দিয়ে চলে যান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ঢাকা সিএনজি অটো পার্টসের মালিক মাসুম জানান, গত বুধবার সকালে গাজীপুরের বোর্ডবাজার বড়বাড়ী জমজম ফিলিং স্টেশনের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন ইমরান। এ সময় ঢাকাগামী সেনাবাহিনীর একটি দ্রুতগতির বাস তাকে ধাক্কা দিলে তিনি রাস্তায় পড়ে যান এবং তার মাথা, হাত, পা ও বুকে প্রচণ্ড আঘাত লাগে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের শান্তি প্রস্তাবের জবাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে

সাংবাদিককে ঢামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা: জীবন নিয়ে টানাটানি

আপডেট সময় : ০৮:৪৪:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

গাজীপুরের বড়বাড়ী এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত আমার দেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ইমরান হোসেনের (২৩) শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহআলীতে বোনের বাসায় বিশ্রামরত অবস্থায় তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।

গত বুধবার এই দুর্ঘটনা ঘটে। এরপর ইমরানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নামমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ইমরানের পরিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য অনুরোধ করলেও কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তা আমলে নেননি। দুর্ঘটনার পরপরই ইমরানের মাথায় তীব্র রক্তপাত শুরু হয় এবং তিনি কাঁধে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করতে থাকেন।

গতকাল তার অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে পুনরায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এক্স-রে করার পর চিকিৎসকরা জানান, তার কাঁধের হাড় ভেঙে গেছে এবং জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে ভর্তি করতে রাজি হচ্ছিলেন না। বারবার তারা পরিবারকে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে ভর্তির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালান এবং অনেক টালবাহানার পর অবশেষে ঢামেক কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি করায়। পরিবার ইমরানকে নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, কারণ তার মাথা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আসাদুজ্জামানকে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, গতকাল সকালে ইমরানের বোনের বাসায় মিলিটারি পুলিশের দুই সদস্য হাসিব ও সুমন যান। এ সময় ইমরানের শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকা সত্ত্বেও তারা ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে তার কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ জানতে চান। ইমরান কথা বলতে পারছিলেন না। পরিবারের সদস্যদের বাধার মুখে তারা সেখান থেকে ফিরে আসেন। তারা ইমরানের সুষ্ঠু চিকিৎসার জন্য মিলিটারি পুলিশের কাছে দাবি জানান এবং পরিবারের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর আশ্বাস দিয়ে চলে যান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ঢাকা সিএনজি অটো পার্টসের মালিক মাসুম জানান, গত বুধবার সকালে গাজীপুরের বোর্ডবাজার বড়বাড়ী জমজম ফিলিং স্টেশনের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন ইমরান। এ সময় ঢাকাগামী সেনাবাহিনীর একটি দ্রুতগতির বাস তাকে ধাক্কা দিলে তিনি রাস্তায় পড়ে যান এবং তার মাথা, হাত, পা ও বুকে প্রচণ্ড আঘাত লাগে।