মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জাতীয় চিড়িয়াখানার বেদখল হওয়া প্রায় ৭ একর জমি দ্রুত পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন।
শুক্রবার রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় আকস্মিক পরিদর্শনে এসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি সাধারণ দর্শনার্থীর মতোই টিকিট কেটে চিড়িয়াখানার ভেতরে প্রবেশ করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী চিড়িয়াখানার পাবলিক টয়লেট সংখ্যা বৃদ্ধি, দর্শনার্থীদের বসার স্থান সম্প্রসারণ, রাস্তাঘাট মেরামত, সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং পশুপাখির সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, বর্তমান বাজেটের মধ্যেই দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ শুরু করতে হবে।
আকস্মিক পরিদর্শনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, চিড়িয়াখানায় কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা আছে কিনা তা সরেজমিনে দেখতেই তিনি হঠাৎ করে এসেছেন।
তিনি আরও বলেন, কাউকে না জানিয়ে এখানে এসেছি, যাতে প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায়। পরিচ্ছন্নতা, বসার ব্যবস্থা ও দর্শনার্থীদের সুবিধা বাড়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন কিছু প্রাণী আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থানকালে প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন প্রাণীর খাঁচা, প্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্র ও ওষুধ সংরক্ষণাগার পরিদর্শন করেন। প্রথমে প্রাণী পুষ্টি শাখায় গিয়ে তিনি প্রাণীদের খাবারের মান ও পরিমাণ যাচাই করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে প্রাণীদের খাদ্য, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচর্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল চিড়িয়াখানার পরিবেশ, ব্যবস্থাপনা এবং কোনো ত্রুটি আছে কিনা তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা। এ সময় তিনি দর্শনার্থীদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশার বিষয়ে জানতে চান।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানী ও এর আশপাশের জেলা থেকে আসা হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়ে চিড়িয়াখানা ছিল মুখর। প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রদর্শনী এলাকায় ছিল উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন ও শিশুদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রাণীদের খাদ্য সরবরাহ সন্তোষজনক হলেও দর্শনার্থীরা আরও উন্নত পরিবেশ প্রত্যাশা করেন। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিড়িয়াখানাকে আরও সংগঠিতভাবে পরিচালনা করতে হবে। এটি একটি সম্ভাবনাময় প্রকল্প। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এটিকে লাভজনক ও দর্শনার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।
রিপোর্টারের নাম 
























