ঢাকা ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

সেনা তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ: সাবেক ডিজিএফআই প্রধান মামুন খালেদ গ্রেপ্তার

ওয়ান-ইলেভেন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ অবশেষে আইনের আওতায় এসেছেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে, জুলাই হত্যা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

সেনা কর্মকর্তাদের আমানত আত্মসাৎ এবং জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প কেলেঙ্কারির ঘটনায় মামুন খালেদ সাধারণ সেনা অফিসারদের কাছে পরিচিতি লাভ করেন অর্থ আত্মসাৎকারীরূপে। জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, ‘আশিয়ান সিটি’র মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য তিনি নজরুল ইসলামের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। মামুন খালেদ মোট তিনটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন আশিয়ান সিটির সাথে, যার মধ্যে দুটি ২০১১ সালের ২০ মার্চ এবং অন্যটি একই বছরের ২৫ মে সম্পাদিত হয়। এই চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন তার অধীনে থাকা কয়েকজন প্রাক্তন জুনিয়র অফিসার।

প্রাথমিকভাবে, মামুন খালেদ অফিসারদের জন্য তিন হাজার বিঘা জমি কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করলেও, পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে ২ হাজার ২০০ বিঘার চুক্তিতে আসেন। অভিযোগ আছে, অবশিষ্ট ৮০০ বিঘা জমি নজরুল ইসলাম এবং মামুন খালেদ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরবর্তীতে তারা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তৃতীয় একটি চুক্তি সম্পাদন করেন, যেখানে কেবল ২ হাজার ২০০টি প্লটের উল্লেখ থাকে। পূর্বে অফিসারদের প্রত্যেককে পাঁচ কাঠা করে জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও, নতুন চুক্তিতে তা কমিয়ে চার কাঠা করা হয়। নৌ ও বিমান বাহিনীর ৫ হাজার ১০৩ জন কর্মরত এবং ৮৮৫ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ হাজার হাজার সেনা কর্মকর্তা তাদের জমা দেওয়া লাখ লাখ টাকা থেকে কয়েকশ কোটি টাকা লোকসানের শিকার হন। অফিসারদের জমা দেওয়া ১ হাজার ১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যবহার করে তিনি নিজের শ্বশুর ও শ্যালকের নামে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, মামুন খালেদ ‘সাবলাইম’ গ্রুপের অধীনে সাবলাইম নেটওয়ার্ক, সাবলাইম আইটি, সাবলাইম বাংলাদেশ সহ অন্তত সাতটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে। এছাড়াও, ‘গ্রিন রেড লিমিটেড’ নামে একটি ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে সরকারি বাসভবনকে ব্যবসার ঠিকানা বানিয়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকার একটি ফ্লাইওভারের কাজ বাগিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। সাবলাইম নেটওয়ার্ক (রেজিস্ট্রেশন ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২) এবং সাবলাইম আইটি (রেজিস্ট্রেশন ২৭ মার্চ) এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই লুটপাটেরই অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের শান্তি প্রস্তাবের জবাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে

সেনা তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ: সাবেক ডিজিএফআই প্রধান মামুন খালেদ গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৪:০৯:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ওয়ান-ইলেভেন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ অবশেষে আইনের আওতায় এসেছেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে, জুলাই হত্যা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

সেনা কর্মকর্তাদের আমানত আত্মসাৎ এবং জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প কেলেঙ্কারির ঘটনায় মামুন খালেদ সাধারণ সেনা অফিসারদের কাছে পরিচিতি লাভ করেন অর্থ আত্মসাৎকারীরূপে। জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, ‘আশিয়ান সিটি’র মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য তিনি নজরুল ইসলামের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। মামুন খালেদ মোট তিনটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন আশিয়ান সিটির সাথে, যার মধ্যে দুটি ২০১১ সালের ২০ মার্চ এবং অন্যটি একই বছরের ২৫ মে সম্পাদিত হয়। এই চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন তার অধীনে থাকা কয়েকজন প্রাক্তন জুনিয়র অফিসার।

প্রাথমিকভাবে, মামুন খালেদ অফিসারদের জন্য তিন হাজার বিঘা জমি কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করলেও, পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে ২ হাজার ২০০ বিঘার চুক্তিতে আসেন। অভিযোগ আছে, অবশিষ্ট ৮০০ বিঘা জমি নজরুল ইসলাম এবং মামুন খালেদ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরবর্তীতে তারা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তৃতীয় একটি চুক্তি সম্পাদন করেন, যেখানে কেবল ২ হাজার ২০০টি প্লটের উল্লেখ থাকে। পূর্বে অফিসারদের প্রত্যেককে পাঁচ কাঠা করে জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও, নতুন চুক্তিতে তা কমিয়ে চার কাঠা করা হয়। নৌ ও বিমান বাহিনীর ৫ হাজার ১০৩ জন কর্মরত এবং ৮৮৫ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ হাজার হাজার সেনা কর্মকর্তা তাদের জমা দেওয়া লাখ লাখ টাকা থেকে কয়েকশ কোটি টাকা লোকসানের শিকার হন। অফিসারদের জমা দেওয়া ১ হাজার ১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যবহার করে তিনি নিজের শ্বশুর ও শ্যালকের নামে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, মামুন খালেদ ‘সাবলাইম’ গ্রুপের অধীনে সাবলাইম নেটওয়ার্ক, সাবলাইম আইটি, সাবলাইম বাংলাদেশ সহ অন্তত সাতটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে। এছাড়াও, ‘গ্রিন রেড লিমিটেড’ নামে একটি ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে সরকারি বাসভবনকে ব্যবসার ঠিকানা বানিয়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকার একটি ফ্লাইওভারের কাজ বাগিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। সাবলাইম নেটওয়ার্ক (রেজিস্ট্রেশন ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২) এবং সাবলাইম আইটি (রেজিস্ট্রেশন ২৭ মার্চ) এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই লুটপাটেরই অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।