ঢাকা ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

পটাশিয়ামের অভাব কতটা মারাত্মক? বিশেষজ্ঞ জানালেন হৃৎপিণ্ডের জন্য এটি কতটা জরুরি

সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন গবেষণা অনুযায়ী, পটাশিয়াম মানবদেহের হৃৎস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষ অজান্তেই এই গুরুত্বপূর্ণ খনিজটির ঘাটতিতে ভুগছেন, যা বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে পটাশিয়াম গ্রহণের পরিমাণ বাড়ালে বড় ধরনের হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ হৃদ্‌রোগ এবং স্ট্রোকের মতো গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ২০ শতাংশ এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি প্রায় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে। বিশেষ করে যেসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের প্রবণতা বেশি, তাদের জন্য পটাশিয়াম গ্রহণ আরও বেশি জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ তাদের অজান্তেই পটাশিয়ামের ঘাটতিতে ভুগছেন। এই ‘লুকানো ঘাটতি’ কেবল হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকিই বাড়ায় না, বরং আরও কিছু কম পরিচিত কিন্তু গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। সচেতনতার অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এই সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করছে বলে তারা মনে করেন।

টিসাইড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন ইয়াং বলেন, আধুনিক জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং বেশি লবণযুক্ত খাদ্য গ্রহণ শরীরের এই প্রয়োজনীয় ভারসাম্য নষ্ট করে। এই ধরনের খাদ্যাভ্যাস শুধু পটাশিয়ামের ঘাটতিই বাড়ায় না, বরং শরীরে সোডিয়ামের ক্ষতিকর প্রভাবকেও বাড়িয়ে দেয়।

পটাশিয়াম শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক কাজে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এটি স্নায়ুর সংকেত নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, পেশির সংকোচন স্বাভাবিক রাখে, হৃৎস্পন্দন স্থিতিশীল রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পটাশিয়ামের সামান্য ঘাটতিতেও পেশিতে টান ধরা, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং মাথাব্যথার মতো সাধারণ সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে গুরুতর ঘাটতির ক্ষেত্রে মানসিক বিভ্রান্তি, বিষণ্নতা, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, হজমের সমস্যা এবং শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না করা হলে এসব সমস্যা আরও গুরুতর অসুস্থতায় রূপ নিতে পারে, যা জীবনঘাতীও হতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের শান্তি প্রস্তাবের জবাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে

পটাশিয়ামের অভাব কতটা মারাত্মক? বিশেষজ্ঞ জানালেন হৃৎপিণ্ডের জন্য এটি কতটা জরুরি

আপডেট সময় : ০৪:০৮:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন গবেষণা অনুযায়ী, পটাশিয়াম মানবদেহের হৃৎস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষ অজান্তেই এই গুরুত্বপূর্ণ খনিজটির ঘাটতিতে ভুগছেন, যা বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে পটাশিয়াম গ্রহণের পরিমাণ বাড়ালে বড় ধরনের হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ হৃদ্‌রোগ এবং স্ট্রোকের মতো গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ২০ শতাংশ এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি প্রায় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে। বিশেষ করে যেসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের প্রবণতা বেশি, তাদের জন্য পটাশিয়াম গ্রহণ আরও বেশি জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ তাদের অজান্তেই পটাশিয়ামের ঘাটতিতে ভুগছেন। এই ‘লুকানো ঘাটতি’ কেবল হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকিই বাড়ায় না, বরং আরও কিছু কম পরিচিত কিন্তু গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। সচেতনতার অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এই সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করছে বলে তারা মনে করেন।

টিসাইড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন ইয়াং বলেন, আধুনিক জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং বেশি লবণযুক্ত খাদ্য গ্রহণ শরীরের এই প্রয়োজনীয় ভারসাম্য নষ্ট করে। এই ধরনের খাদ্যাভ্যাস শুধু পটাশিয়ামের ঘাটতিই বাড়ায় না, বরং শরীরে সোডিয়ামের ক্ষতিকর প্রভাবকেও বাড়িয়ে দেয়।

পটাশিয়াম শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক কাজে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এটি স্নায়ুর সংকেত নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, পেশির সংকোচন স্বাভাবিক রাখে, হৃৎস্পন্দন স্থিতিশীল রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পটাশিয়ামের সামান্য ঘাটতিতেও পেশিতে টান ধরা, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং মাথাব্যথার মতো সাধারণ সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে গুরুতর ঘাটতির ক্ষেত্রে মানসিক বিভ্রান্তি, বিষণ্নতা, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, হজমের সমস্যা এবং শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না করা হলে এসব সমস্যা আরও গুরুতর অসুস্থতায় রূপ নিতে পারে, যা জীবনঘাতীও হতে পারে।