ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে মরিয়া: ট্রাম্প, তবে মাঠের চিত্র ভিন্ন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত বন্ধে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ‘খুবই মরিয়া’ হয়ে আছে। যদিও ইরান পূর্বে এই ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে, ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য উদগ্রীব।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের ‘উপযুক্ত ব্যক্তিদের’ সঙ্গে যোগাযোগ করছে, তবে তিনি কার সঙ্গে এই আলোচনা চলছে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, তেহরানের পক্ষ থেকে ‘তেল ও গ্যাস’ সংশ্লিষ্ট একটি বড় ধরনের প্রস্তাব আসতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে প্রাধান্য পাচ্ছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতার একটি বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি এমনকি ইরানে ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন’ ঘটানো হয়েছে এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন, যদিও এসব দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

মাঠপর্যায়ের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ইরান এখনো হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ চলমান থাকায় ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ট্রাম্পের এসব বক্তব্যকে ‘ভুয়া খবর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। একই সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন ইরানের কাছে ১৫ দফা একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

আল জাজিরার প্রতিবেদক তেরেসা বো জানিয়েছেন, এই প্রস্তাব সম্ভবত পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানে পৌঁছানো হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ব্যয়বহুল ও অজনপ্রিয় এই যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে রয়েছেন। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ মানুষ ইরানে হামলার বিরোধিতা করছে। বিশ্লেষক নেগার মরতাজাভি মনে করেন, ইরান এই যুদ্ধ নিজের শর্তে শেষ করতে চাইবে। তাঁর মতে, তেহরান ভবিষ্যতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুবিধাও নিশ্চিত করতে চাইছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রেখে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনে প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি ইরানের কৌশলের অংশ হতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্চারি ফেডারেশনে আর্থিক স্বচ্ছতা ফেরাতে গিয়ে কোষাধ্যক্ষ অপসারিত

ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে মরিয়া: ট্রাম্প, তবে মাঠের চিত্র ভিন্ন

আপডেট সময় : ১১:১৯:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত বন্ধে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ‘খুবই মরিয়া’ হয়ে আছে। যদিও ইরান পূর্বে এই ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে, ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য উদগ্রীব।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের ‘উপযুক্ত ব্যক্তিদের’ সঙ্গে যোগাযোগ করছে, তবে তিনি কার সঙ্গে এই আলোচনা চলছে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, তেহরানের পক্ষ থেকে ‘তেল ও গ্যাস’ সংশ্লিষ্ট একটি বড় ধরনের প্রস্তাব আসতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে প্রাধান্য পাচ্ছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতার একটি বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি এমনকি ইরানে ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন’ ঘটানো হয়েছে এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন, যদিও এসব দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

মাঠপর্যায়ের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ইরান এখনো হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ চলমান থাকায় ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ট্রাম্পের এসব বক্তব্যকে ‘ভুয়া খবর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। একই সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন ইরানের কাছে ১৫ দফা একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

আল জাজিরার প্রতিবেদক তেরেসা বো জানিয়েছেন, এই প্রস্তাব সম্ভবত পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানে পৌঁছানো হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ব্যয়বহুল ও অজনপ্রিয় এই যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে রয়েছেন। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ মানুষ ইরানে হামলার বিরোধিতা করছে। বিশ্লেষক নেগার মরতাজাভি মনে করেন, ইরান এই যুদ্ধ নিজের শর্তে শেষ করতে চাইবে। তাঁর মতে, তেহরান ভবিষ্যতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুবিধাও নিশ্চিত করতে চাইছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রেখে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনে প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি ইরানের কৌশলের অংশ হতে পারে।