রাজধানীর ডেমরা ও সবুজবাগ এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় দুই নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ডেমরায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, সবুজবাগে এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যাকে প্রাথমিকভাবে মানসিক অবসাদের কারণে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, নিহত দুই নারীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার বাঁশেরপুল এলাকার একটি বাসা থেকে নাসরিন আক্তার (২৭) নামের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে ডেমরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শায়েখ খসরু জানিয়েছেন।
তবে নিহতের বাবা কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর গ্রামের কৃষক ইকবাল হোসেন দাবি করেছেন, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নাসরিনের স্বামী পলাশ একজন প্রাইভেটকার চালক এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও তিনি জানান। ইকবাল হোসেন বলেন, শনিবার রাত দেড়টার দিকে পলাশ ফোন করে জানান, নাসরিন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা লাশ দেখতে পান। প্রায় নয় বছর আগে তাদের বিয়ে হয় এবং তাদের একটি সন্তান জন্ম নিলেও পরে মারা যায়। নাসরিন বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাইফুর রহমান মির্জা বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যার ঘটনা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী পলাশকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, রবিবার সকালে রাজধানীর সবুজবাগের দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ এলাকার ভাড়া বাসা থেকে নিলুফার ইয়াসমিন (২৯) নামের এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সবুজবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা জানান, সকাল সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে কোনো একসময় পরিবারের অগোচরে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। তার স্বামী একজন পুলিশ কর্মকর্তা। পরিবার ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিলুফার ইয়াসমিন মানসিক অবসাদের কারণে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
রিপোর্টারের নাম 






















