চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক ব্যতিক্রমধর্মী ঈদ পুনর্মিলনীতে রাজনৈতিক ভিন্নমতের দুই শীর্ষ নেতা একই টেবিলে বসে মেজবানের খাবার গ্রহণ করেছেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে সম্প্রীতির এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসিএ এবং জামায়াতের পরাজিত এমপি প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, যা শেষ পর্যন্ত এক আনন্দঘন পুনর্মিলনীতে রূপ নেয়।
সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের জলিল গেইট এলাকায় আসলাম চৌধুরীর বাসভবনে এই মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে দুই নেতা পরস্পরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দেশ ও জাতির শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি কামনা করেন। এরপর আয়োজিত হয় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান, যেখানে গরুর গোশত ও পরোটা দিয়ে আগত অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল, দুই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নেতা একই টেবিলে বসে একসঙ্গে মেজবানি খাবার গ্রহণ করেন। তাদের সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও এই আয়োজনে অংশ নেন। এই দৃশ্য এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, আসলাম চৌধুরীর বাসভবনে প্রতি বছরই ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের আয়োজন হয়ে আসছিল। তবে দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার কারণে বিগত বছরগুলোতে এই আয়োজন বন্ধ ছিল। কারামুক্তি লাভের পর এ বছর ঐতিহ্যবাহী মেজবান পুনরায় ফিরে আসায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
জামায়াত নেতা আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরীর এই সৌজন্য সাক্ষাৎ সীতাকুণ্ডজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে এ ধরনের সম্প্রীতির বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, ঈদকে ঘিরে এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ উদ্যোগ সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করে এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়তা করে। বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, এই ব্যতিক্রমধর্মী মিলনমেলা ভবিষ্যতে সমঝোতাপূর্ণ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রিপোর্টারের নাম 

























