দক্ষিণাঞ্চলের নয়নাভিরাম সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটার কাছেই রয়েছে এক মনোমুগ্ধকর স্থান, যা ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত। কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই স্থানটি পর্যটকদের প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো, ছবি তোলা এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরিবিলি পরিবেশ উপভোগের এক চমৎকার সুযোগ করে দিচ্ছে।
অনেক ভ্রমণপিপাসু এখানে তাঁবু খাটিয়ে রাত কাটানোর অভিজ্ঞতাও সঞ্চয় করেন। এখানকার অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হলো—একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার বিরল সুযোগ। এছাড়াও, এর কাছাকাছি অবস্থিত ‘লাল কাঁকড়ার দ্বীপ’ পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ যোগ করছে।
ঢাকা থেকে আগত পর্যটক নুরসাত ও সোহান দম্পতি জানান, ‘আমরা অনেক জায়গায় ঘুরেছি, কিন্তু একই জায়গা থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখাটা সত্যিই এক বিরল অভিজ্ঞতা। এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত ও মনোরম।’
আরেক পর্যটক রায়হান সাব্বির বলেন, ‘মিনি সুইজারল্যান্ডে এসে মনে হচ্ছে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছি। এখানকার নীরবতা এবং নির্মল বাতাস এক অন্যরকম শান্তি এনে দেয়।’
স্থানীয় ট্যুর গাইড আবুছালেহ জানান, ‘প্রাথমিকভাবে স্থানীয় কয়েকজন মিলে এই স্থানটিকে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে ডাকতেন। পরবর্তীতে ভ্রমণব্লগার মি. লাক্সছু মোটরসাইকেলে করে কুয়াকাটার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভিডিও ধারণ করার সময় কাউয়ারচর ও গঙ্গামতির লেকসহ আশপাশের মনোরম দৃশ্য তার ভিডিওতে তুলে আনেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই জায়গাটি দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করে।’
মি. লাক্সছু বলেন, ‘প্রথম যখন এখানে আসি, জায়গাটি তেমন পরিচিত ছিল না। চারদিকে সবুজের সমারোহ, নীল আকাশ আর সাগরের শান্ত ঢেউ দেখে মনে হয়েছিল—এ যেন বাংলাদেশের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক টুকরো সুইজারল্যান্ড। সেই ভাবনা থেকেই আমার ব্লগে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামটি ব্যবহার করি।’
কুয়াকাটার আরেকটি আকর্ষণ হলো ‘লাল কাঁকড়ার দ্বীপ’। সৈকতের বালুচরে হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ পর্যটকদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। চারপাশের সবুজ বনভূমি এবং শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে এই এলাকাটি ধীরে ধীরে ইকো-ট্যুরিজমের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ এবং লাল কাঁকড়ার দ্বীপকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা হলে কুয়াকাটায় পর্যটন শিল্পে এক নতুন মাত্রা যোগ হবে। ‘আমরা কুয়াকাটাবাসী’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি ও মহিপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান আকাশ উল্লেখ করেন যে, সঠিক পরিকল্পনা এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই স্থানগুলির উন্নয়ন সম্ভব।
রিপোর্টারের নাম 

























