ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

প্রবাসী আয় রিজার্ভ বাড়ালেও ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ বেড়েছে। পরিবার-পরিজনের জন্য বাড়তি খরচ মেটাতে প্রবাসীরা বেশি করে টাকা পাঠাচ্ছেন, যার ফলে চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে এই রিজার্ভ ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। তবে, মোট রিজার্ভের পুরোটা ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদী দায় এবং অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিয়ে যে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ থাকে, সেটিই অর্থনীতির জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ হিসাব করে, যেখানে আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব এবং আকুর বিলের মতো কিছু খাত বাদ দেওয়া হয়, যদিও এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় না।

গত বছরের মার্চে দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ হিসাবে ছিল ২০ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় এক বছরে রিজার্ভ প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে, এই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সাধারণত, একটি দেশের জন্য অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভ থাকা নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়।

অতীতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল, তখন বৈদেশিক ঋণ এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এতদিন বড় ধরনের নতুন বিনিয়োগ না থাকায় আমদানির চাপ তুলনামূলক কম ছিল, যা রিজার্ভ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। তবে, সামনে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগ বাড়তে পারে। এতে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি বাড়বে, ফলে ডলারের চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে এবং নতুন বিনিয়োগ থেকে রপ্তানি আয় বাড়লে ভবিষ্যতে ডলারের সংকট বড় আকার ধারণ করবে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীলঙ্কা থেকে দেশে ফিরলেন আটকে পড়া ২৩৮ ইরানি নাবিক

প্রবাসী আয় রিজার্ভ বাড়ালেও ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৩:০২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ বেড়েছে। পরিবার-পরিজনের জন্য বাড়তি খরচ মেটাতে প্রবাসীরা বেশি করে টাকা পাঠাচ্ছেন, যার ফলে চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে এই রিজার্ভ ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। তবে, মোট রিজার্ভের পুরোটা ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদী দায় এবং অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিয়ে যে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ থাকে, সেটিই অর্থনীতির জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ হিসাব করে, যেখানে আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব এবং আকুর বিলের মতো কিছু খাত বাদ দেওয়া হয়, যদিও এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় না।

গত বছরের মার্চে দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ হিসাবে ছিল ২০ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় এক বছরে রিজার্ভ প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে, এই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সাধারণত, একটি দেশের জন্য অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভ থাকা নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়।

অতীতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল, তখন বৈদেশিক ঋণ এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এতদিন বড় ধরনের নতুন বিনিয়োগ না থাকায় আমদানির চাপ তুলনামূলক কম ছিল, যা রিজার্ভ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। তবে, সামনে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগ বাড়তে পারে। এতে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি বাড়বে, ফলে ডলারের চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে এবং নতুন বিনিয়োগ থেকে রপ্তানি আয় বাড়লে ভবিষ্যতে ডলারের সংকট বড় আকার ধারণ করবে না।