বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে স্বাগত জানালেও ব্যাংক খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, বেসরকারি ঋণপ্রবাহ সুরক্ষা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বজায় রাখা এবং সুষম কর কাঠামো প্রণয়নের ওপর জোর দিয়েছে। সংগঠনটি মনে করে, সরকারের সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতা করবে তারা, তবে একই সঙ্গে দ্রুত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, আত্মসাৎকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার, বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ রক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতে কর কাঠামোর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বিএবি জানায়, সরকার ঘোষিত ৪০ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ (রিক্যাপিটালাইজেশন) কর্মসূচি, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি কাঠামো, ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের অঙ্গীকার এবং কর্পোরেট ও মিউনিসিপ্যাল বন্ড বাজার উন্নয়নের উদ্যোগকে তারা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায়। এছাড়া আমানতের ওপর আবগারি কর অব্যাহতির সীমা ৪ লাখ টাকায় উন্নীতকরণ, ছয় শতাংশ সুদ ভর্তুকিসহ ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ এবং লভ্যাংশ প্রত্যাবাসন, সহজীকৃত বাণিজ্য প্রক্রিয়া ও ওয়ান-স্টপ বিনিয়োগ সেবাসহ বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপকে সংগঠনটি ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।
তবে ব্যাংক খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএবি। এর মধ্যে রয়েছে আত্মসাৎকৃত সম্পদ দ্রুত পুনরুদ্ধার, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, অনিয়মিত শেয়ারহোল্ডিংয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং ব্যাংকের দুর্বল সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) গঠন। সংগঠনটির মতে, প্রস্তাবিত ব্যাংক রেজোলিউশন কাঠামোতে এমন ব্যবস্থা থাকা উচিত যাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংকটের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা পুনরায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না পান।
বিএবি আরও উল্লেখ করে যে, ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা সরকারি ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই সরকারি ঋণ গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন এবং বন্ড বাজারের দ্রুত বিকাশ জরুরি। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাবের ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলককরণ ও কর-ব্যাংকিং তথ্যভান্ডার সংযুক্তির বিষয়টি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরামর্শও দিয়েছে সংগঠনটি।
রিপোর্টারের নাম 



















