ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন ও পানির ন্যায্য হিস্যা দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা

তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি। একই সঙ্গে, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে রংপুর নগরীর পুরাতন পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক এবং রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল।

তিনি বলেন, তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, পরিবেশ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা এবং সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনার দাবিতে মানুষ অপেক্ষা করলেও এখনো কোনো স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর ২০২৬ সালে শেষ হতে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তিস্তা পানিবণ্টন প্রশ্নটি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। ১৯৮৩ সালে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে একটি অস্থায়ী সমঝোতা এবং ২০১১ সালে একটি স্থায়ী চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হলেও তা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতি শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার বুকে চরম পানি সংকট দেখা দেয়, যার ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়। অন্যদিকে, বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও নদী ভাঙনের কারণে দুই তীরের মানুষ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এতে বহু মানুষ বাস্তুহারা হওয়ার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও আশ্রয় সংকটে পড়েন। একই সঙ্গে, নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদী খনন, ভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। অথচ, জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিভিন্ন বৃহৎ প্রকল্প অগ্রাধিকার পেলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে, যা উত্তরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে হতাশা ও বঞ্চনার অনুভূতি সৃষ্টি করেছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের প্রতি পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো: তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ; তিস্তা মহাপরিকল্পনা জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করে দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন; তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; তিস্তা নদীর নাব্য বৃদ্ধি ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ; এবং তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জনজীবনের টেকসই উন্নয়নের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে ১৯৭ কিলোমিটার পথ নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঘুরে বেড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন ও পানির ন্যায্য হিস্যা দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা

আপডেট সময় : ১০:১০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি। একই সঙ্গে, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে রংপুর নগরীর পুরাতন পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক এবং রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল।

তিনি বলেন, তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, পরিবেশ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা এবং সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনার দাবিতে মানুষ অপেক্ষা করলেও এখনো কোনো স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর ২০২৬ সালে শেষ হতে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তিস্তা পানিবণ্টন প্রশ্নটি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। ১৯৮৩ সালে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে একটি অস্থায়ী সমঝোতা এবং ২০১১ সালে একটি স্থায়ী চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হলেও তা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতি শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার বুকে চরম পানি সংকট দেখা দেয়, যার ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়। অন্যদিকে, বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও নদী ভাঙনের কারণে দুই তীরের মানুষ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এতে বহু মানুষ বাস্তুহারা হওয়ার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও আশ্রয় সংকটে পড়েন। একই সঙ্গে, নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদী খনন, ভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। অথচ, জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিভিন্ন বৃহৎ প্রকল্প অগ্রাধিকার পেলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে, যা উত্তরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে হতাশা ও বঞ্চনার অনুভূতি সৃষ্টি করেছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের প্রতি পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো: তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ; তিস্তা মহাপরিকল্পনা জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করে দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন; তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; তিস্তা নদীর নাব্য বৃদ্ধি ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ; এবং তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জনজীবনের টেকসই উন্নয়নের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন।