নাটোর: নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর বাসভবনে পরপর দুবার চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নাটোর সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। সরকারি ছুটির সুযোগে দুর্বৃত্তরা এই দুটি প্রতিষ্ঠানে হানা দিয়ে কম্পিউটার, আইপিএস, পিসিসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে।
নাটোর সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত বৃহস্পতিবার অফিস ছুটির পর রোববার সকালে অফিস খুলে তারা দেখতে পান যে অফিসের ভেতরের বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ অবস্থায় পড়ে আছে। দুর্বৃত্তরা অফিসের জানালার লোহার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এবং কম্পিউটার, আইপিএস, পিসিসহ বেশ কিছু মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
একই সময়ে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালেও চুরির ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহাবুবুর রহমান জানান, চোরেরা হাসপাতালের নতুন ছয়তলা ভবনের ২০১৮ নম্বর কক্ষের জানালার গ্রিল খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এই কক্ষে নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগের চিকিৎসকরা নিয়মিত রোগী দেখেন। সম্প্রতি এই হাসপাতালেই এক শিশু রোগীর মাকে ধর্ষণের অভিযোগে তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মী (সুইপার) গ্রেপ্তারের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই হাসপাতালটিতে নতুন করে চুরির ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, “নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ১৫ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করলেও হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর অনেক জায়গায় দুর্বল ও অরক্ষিত। ফলে বিভিন্ন দিক দিয়ে সহজেই হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করা যায়। এ কারণে নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে।” তিনি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং সীমানা প্রাচীর সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। চুরি যাওয়া মালামালের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলে জানা গেছে।
রিপোর্টারের নাম 




















