জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলাকালে একজন সংসদ সদস্যের দেওয়া নারী এমপিদের পোশাক ও পর্দা বিষয়ক বক্তব্যকে ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত অবমাননাকর ও আপত্তিকর বলে অভিহিত করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘পর্দা ইসলামের একটি অন্যতম ফরজ বিধান। এই পবিত্র বিধান নিয়ে জাতীয় সংসদের মতো একটি দায়িত্বশীল ও পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে জনাব মনিরুল হক চৌধুরী যে ধরনের কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত এবং মুসলিমদের হৃদয়ে চরম আঘাত হানার শামিল।’ তিনি আরও বলেন, বাজেট আলোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে সরে এসে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করতে গিয়ে একটি মনগড়া পারিবারিক দাওয়াতের গল্প টেনে আনেন। এই প্রসঙ্গে তিনি উপস্থিত নারী সংসদ সদস্যদের ইঙ্গিত করে তাদের পোশাক ও পর্দা নিয়ে চরম আপত্তিকর ও ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন, যা একজন আইনপ্রণেতার মুখ থেকে সংসদ অধিবেশনে কোনোভাবেই কাম্য নয়।
গোলাম পরওয়ারের মতে, এই দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের কারণে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয় এবং পুরো অধিবেশন কক্ষে এক নজিরবিহীন হট্টগোল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে কঠোর ভাষায় সংসদ সদস্যকে সতর্ক করতে হয় এবং তিনি বলেন, ‘এই মহান সংসদ কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলার চারণক্ষেত্র নয়।’ জামায়াতে ইসলামী সংসদের মর্যাদা রক্ষায় স্পিকারের এই সময়োপযোগী অবস্থান এবং বিতর্কিত ও আপত্তিকর বক্তব্যটি সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে।
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার সংসদ সদস্যকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো উসকানিমূলক এবং নারীদের মর্যাদাহানিকর বক্তব্য প্রদান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি মহান সংসদের পবিত্রতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে সরকারি ও বিরোধী দল উভয়েরই সচেতন থাকার উপর জোর দেন।
রিপোর্টারের নাম 























