ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বন্দর ও শিপিং খাতে বড় দুর্নীতির অভিযোগ: দুদকের জালে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ও শিপিং খাতে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম এবং প্রভাব বাণিজ্যের অভিযোগে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই অনুসন্ধানের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) এমডি থাকাকালীন জাহাজ কেনায় অনিয়ম, দরপত্রের শর্ত পরিবর্তন করে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিএসসির এমডি থাকাকালে ৬টি জাহাজ কেনার পরিকল্পনায় ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৪টি জাহাজ কেনা হয়, যেখানে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এছাড়া অপরিশোধিত তেল পরিবহনের একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে বাজারদরের চেয়ে প্রতি টনে ৩০-৪০ ডলার বেশি পরিশোধ করে কয়েকশ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে ‘মুকুল কনস্ট্রাকশন’ নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একাধিক আবাসিক সম্পদ ক্রয়ের তথ্য পেয়েছে দুদক, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নামে নিবন্ধিত। এস এম মনিরুজ্জামানের ছেলে মুহতাসিম ইয়াসার নিউইয়র্ক ও দুবাইয়ে সংশ্লিষ্ট শিপিং প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার চুরি, কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং ড্রেজিং প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির প্রমাণ মিলেছে। নিয়োগের ক্ষেত্রেও লিখিত পরীক্ষার ফল পরিবর্তন এবং অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই বিশাল দুর্নীতি উন্মোচনে দুদকের উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি বিশেষ অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন তানজির হাসিব সরকার, রাজু আহমেদ এবং আবু বকর সিদ্দিক।

দুদকের উপ-পরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং প্রকল্পসহ একাধিক প্রকল্পে অনিয়মের নথিপত্র সংগ্রহের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং প্রমান মিললে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। বন্দর খাতের এই শুদ্ধি অভিযানকে দেশের অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে মতপার্থক্য

বন্দর ও শিপিং খাতে বড় দুর্নীতির অভিযোগ: দুদকের জালে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান

আপডেট সময় : ১১:০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ও শিপিং খাতে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম এবং প্রভাব বাণিজ্যের অভিযোগে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই অনুসন্ধানের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) এমডি থাকাকালীন জাহাজ কেনায় অনিয়ম, দরপত্রের শর্ত পরিবর্তন করে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিএসসির এমডি থাকাকালে ৬টি জাহাজ কেনার পরিকল্পনায় ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৪টি জাহাজ কেনা হয়, যেখানে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এছাড়া অপরিশোধিত তেল পরিবহনের একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে বাজারদরের চেয়ে প্রতি টনে ৩০-৪০ ডলার বেশি পরিশোধ করে কয়েকশ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে ‘মুকুল কনস্ট্রাকশন’ নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একাধিক আবাসিক সম্পদ ক্রয়ের তথ্য পেয়েছে দুদক, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নামে নিবন্ধিত। এস এম মনিরুজ্জামানের ছেলে মুহতাসিম ইয়াসার নিউইয়র্ক ও দুবাইয়ে সংশ্লিষ্ট শিপিং প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার চুরি, কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং ড্রেজিং প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির প্রমাণ মিলেছে। নিয়োগের ক্ষেত্রেও লিখিত পরীক্ষার ফল পরিবর্তন এবং অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই বিশাল দুর্নীতি উন্মোচনে দুদকের উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি বিশেষ অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন তানজির হাসিব সরকার, রাজু আহমেদ এবং আবু বকর সিদ্দিক।

দুদকের উপ-পরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং প্রকল্পসহ একাধিক প্রকল্পে অনিয়মের নথিপত্র সংগ্রহের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং প্রমান মিললে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। বন্দর খাতের এই শুদ্ধি অভিযানকে দেশের অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।