ঢাকা ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের উদ্বেগজনক চিত্র: শীর্ষে ব্যবসা ও বাণিজ্য খাত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের বোঝা দিন দিন আরও ভারী হচ্ছে, যার মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য খাত। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই খাতে বিতরণ করা ঋণের ৪২.৫০ শতাংশই এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। একক খাত হিসেবে এটিই সর্বোচ্চ। শিল্প খাতেও পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়, সেখানে খেলাপি ঋণের হার ৩০.৮০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সামগ্রিকভাবে পুরো ব্যাংকিং খাতে খেলাপির গড় হার এখন ৩১.২০ শতাংশ অতিক্রম করেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক পরিবেশের অবনতিই খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রধান কারণ। মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বাজারে পণ্যের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে, যা সরাসরি ব্যবসার বিক্রিতে প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি ডলার সংকট এবং এলসি খোলার জটিলতায় আমদানিনির্ভর শিল্পগুলো উৎপাদন সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। জ্বালানি ও পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িক ব্যয়ও অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এছাড়া ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বড় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি এই প্রান্তিক উদ্যোক্তারাও এখন চরম আর্থিক ঝুঁকির মুখে। ব্যাংক খাতের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকাই এখন খেলাপি। কৃষি, নির্মাণ ও পরিবহণ খাতের অবস্থাও ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নরসিংদীতে কিশোর হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের উদ্বেগজনক চিত্র: শীর্ষে ব্যবসা ও বাণিজ্য খাত

আপডেট সময় : ১০:১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের বোঝা দিন দিন আরও ভারী হচ্ছে, যার মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য খাত। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই খাতে বিতরণ করা ঋণের ৪২.৫০ শতাংশই এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। একক খাত হিসেবে এটিই সর্বোচ্চ। শিল্প খাতেও পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়, সেখানে খেলাপি ঋণের হার ৩০.৮০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সামগ্রিকভাবে পুরো ব্যাংকিং খাতে খেলাপির গড় হার এখন ৩১.২০ শতাংশ অতিক্রম করেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক পরিবেশের অবনতিই খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রধান কারণ। মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বাজারে পণ্যের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে, যা সরাসরি ব্যবসার বিক্রিতে প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি ডলার সংকট এবং এলসি খোলার জটিলতায় আমদানিনির্ভর শিল্পগুলো উৎপাদন সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। জ্বালানি ও পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িক ব্যয়ও অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এছাড়া ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বড় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি এই প্রান্তিক উদ্যোক্তারাও এখন চরম আর্থিক ঝুঁকির মুখে। ব্যাংক খাতের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকাই এখন খেলাপি। কৃষি, নির্মাণ ও পরিবহণ খাতের অবস্থাও ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত।