ঢাকা ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরব থেকে তেল আমদানির সিদ্ধান্ত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনা এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতার মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জরুরি ভিত্তিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান চুক্তির বাইরে গিয়ে সৌদি আরব থেকে অতিরিক্ত ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন। এই বিশাল পরিমাণ জ্বালানি আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৪৬ কোটি টাকা।

রোববার (১৫ মার্চ) অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন জোগান বজায় রাখাকেই সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দে কোনো আপস করা হবে না বলেও নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়। এই জরুরি আমদানির জন্য সৌদি রাজপুত্রের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল’-কে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এলসি ও সরবরাহ পরিস্থিতি: সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি মার্চ মাসের জন্য মোট ১৭টি জাহাজের এলসি (LC) খোলা হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৪টি জাহাজের জ্বালানি দেশে এসে পৌঁছেছে। ৬টি এলসির জাহাজ এখনো অপেক্ষায় থাকলেও বাকি ৭টি এলসি সরবরাহের কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি। অন্যদিকে, আগামী এপ্রিল মাসের জন্য ১৫টি এলসি খোলা হলেও মাত্র ৩টি জাহাজের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন সেচ মৌসুম ও রমজানে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিকল্প উৎসের সন্ধান: অর্থ মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সংকট নিরসনে ইতিমধ্যে ভারত, চীন ও জাপানের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তবে সেই প্রক্রিয়াগুলো সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এবং তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সার্বিক যাচাই-বাছাই শেষে পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল দ্রুততম সময়ে তেল সরবরাহের নিশ্চয়তা দেওয়ায় তাদের নির্বাচন করা হয়েছে।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার শঙ্কা থাকায় সরকার কেবল আমদানির ওপর নির্ভর না থেকে দেশীয় গ্যাসকূপ খননেও নতুন করে জোর দিচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সামাল দিতে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত ২৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার কোটি টাকা এলএনজি (LNG) এবং ৭ হাজার কোটি টাকা বিপিএসি-র মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় করা হবে।

সরকারের এই ত্বরিত পদক্ষেপের ফলে আসন্ন রমজান ও কৃষি সেচ মৌসুমে জ্বালানি সংকট অনেকটা কেটে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

শবে কদরের ফজিলত পেতে ৫টি সহজ উপায়

জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরব থেকে তেল আমদানির সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় : ০৯:০০:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনা এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতার মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জরুরি ভিত্তিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান চুক্তির বাইরে গিয়ে সৌদি আরব থেকে অতিরিক্ত ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন। এই বিশাল পরিমাণ জ্বালানি আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৪৬ কোটি টাকা।

রোববার (১৫ মার্চ) অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন জোগান বজায় রাখাকেই সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দে কোনো আপস করা হবে না বলেও নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়। এই জরুরি আমদানির জন্য সৌদি রাজপুত্রের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল’-কে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এলসি ও সরবরাহ পরিস্থিতি: সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি মার্চ মাসের জন্য মোট ১৭টি জাহাজের এলসি (LC) খোলা হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৪টি জাহাজের জ্বালানি দেশে এসে পৌঁছেছে। ৬টি এলসির জাহাজ এখনো অপেক্ষায় থাকলেও বাকি ৭টি এলসি সরবরাহের কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি। অন্যদিকে, আগামী এপ্রিল মাসের জন্য ১৫টি এলসি খোলা হলেও মাত্র ৩টি জাহাজের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন সেচ মৌসুম ও রমজানে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিকল্প উৎসের সন্ধান: অর্থ মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সংকট নিরসনে ইতিমধ্যে ভারত, চীন ও জাপানের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তবে সেই প্রক্রিয়াগুলো সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এবং তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সার্বিক যাচাই-বাছাই শেষে পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল দ্রুততম সময়ে তেল সরবরাহের নিশ্চয়তা দেওয়ায় তাদের নির্বাচন করা হয়েছে।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার শঙ্কা থাকায় সরকার কেবল আমদানির ওপর নির্ভর না থেকে দেশীয় গ্যাসকূপ খননেও নতুন করে জোর দিচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সামাল দিতে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত ২৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার কোটি টাকা এলএনজি (LNG) এবং ৭ হাজার কোটি টাকা বিপিএসি-র মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় করা হবে।

সরকারের এই ত্বরিত পদক্ষেপের ফলে আসন্ন রমজান ও কৃষি সেচ মৌসুমে জ্বালানি সংকট অনেকটা কেটে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।