সত্তর দশকের শেষের দিকে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে যে ‘খাল খনন বিপ্লব’ দেশের ধূসর মাঠগুলোতে প্রাণের স্পন্দন এনেছিল, দীর্ঘ বিরতির পর আজ সেই একই স্পন্দন প্রতিধ্বনিত হতে যাচ্ছে তারই সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে। এই খাল খনন কর্মসূচি শুধু মাটি কাটার একটি প্রকল্প নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের এই সময়ে বাংলাদেশের কৃষি ও প্রকৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার এক আধুনিক মহাপরিকল্পনা। বাবার শুরু করা সেই জনকল্যাণমুখী রাজনীতির উত্তরাধিকার বহন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খননের সাহসী ডাক দিয়েছেন। তার এই কর্মসূচি আগামীর এক সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের নতুন মানচিত্র আঁকতে যাচ্ছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন তারেক রহমান। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পর দলকে ক্ষমতায় এনে একে একে সেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করে চলেছেন তিনি। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের হাতে মাসিক সম্মানী ও উৎসব বোনাস দেওয়ার পর আজ ১৬ মার্চ সোমবার দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে এই জাতীয় কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। ক্ষমতায় আসার মাত্র এক মাসের মধ্যেই তার গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আগামী ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিনে দেশের মানুষকে তারেক রহমান আরেকটি উপহার হিসেবে দেবেন তার প্রতিশ্রুতি ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের মাধ্যমে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল খনন কর্মসূচি মূলত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ গড়ার দর্শন এবং তার সূচিত খাল খনন কর্মসূচির আধুনিক ও সম্প্রসারিত রূপ। দেশব্যাপী এই কর্মসূচি বাংলাদেশের কৃষি, অর্থনীতি এবং পরিবেশ রক্ষায় একটি যুগান্তকারী বিপ্লব হতে যাচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী, নালা ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রথম ধাপে ৫৪টি জেলায় একযোগে ৬৩টি খালের খননকাজ শুরু হবে। কর্মসূচির প্রথম ১৮০ দিন বা ছয় মাসের মধ্যেই এক হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ দৃশ্যমান করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























