দেশের নিরাপত্তা ও নজরদারি বিষয়ক দুটি বিতর্কিত সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশনস মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) সংস্কারের বিষয়ে সরকারের ধীরগতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন সরকারের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার যে প্রত্যাশা ছিল, তার সঙ্গে বর্তমান পদক্ষেপগুলো সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এনটিএমসি বিলুপ্তির সুপারিশ করলেও নতুন সরকার এই সংস্থার মেয়াদ উল্টো আরও এক বছর বাড়িয়েছে। এনটিএমসির সার্ভারে সংরক্ষিত কল রেকর্ড, লোকেশন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ডেটা নিয়ে রয়েছে গভীর উদ্বেগ। এই বিশাল তথ্যভান্ডার ধ্বংস করা হবে নাকি অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। এই মেয়াদ বৃদ্ধি গুমের প্রমাণ মোছার একটি সুযোগ তৈরি করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ‘ডেথ স্কোয়াড’ হিসেবে পরিচিত র্যাবের নাম ও পোশাক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। র্যাবের নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)’ করার কথা ছিল এবং বাহিনীর কার্যক্রমেও সংস্কার আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবে এর কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী প্রেক্ষাপটে এনটিএমসির মতো প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে খতিয়ে দেখা উচিত। জনগণের করের টাকা কেন এমন প্রতিষ্ঠানের পেছনে ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা আরও মনে করিয়ে দেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার একসময় র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিল। এখন আর সেই পথে কোনো বাধা না থাকা সত্ত্বেও সরকার কেন সময়ক্ষেপণ করছে, তা বোধগম্য নয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত নজরদারি এবং গুমের ঘটনায় এনটিএমসির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আদালতের নথি এবং সরকার গঠিত বিভিন্ন কমিশনের রিপোর্টেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে এনটিএমসি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার প্রস্তাব আসা সত্ত্বেও এর মেয়াদ বৃদ্ধি করা নাগরিক স্বাধীনতা ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।
রিপোর্টারের নাম 
























