প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সূচিত ঐতিহাসিক ‘খাল কাটা কর্মসূচি’র আদলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার পুনঃখননের এক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য কেবল মাটি খনন নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে গ্রামীণ অর্থনীতিকে ঢেলে সাজানোর এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। সরকার আশা করছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। যখন মৃতপ্রায় খালগুলো প্রাণ ফিরে পাবে, তখন কৃষকরা শুষ্ক মৌসুমে সহজেই সেচের পানি পাবেন, যা ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাবে এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনবে। পাশাপাশি, সচল খালগুলোতে মাছ চাষ ও হাঁস পালনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় গ্রামীণ পরিবারগুলোর আয়ের নতুন উৎস সৃষ্টি হবে।
এই কর্মসূচির একটি বিশেষ দিক হলো জনসম্পৃক্ততা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন যেন কেবল যন্ত্রের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় শ্রমিক ও স্বেচ্ছাসেবকদের এই কাজে যুক্ত করা হয়। এতে করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, যা স্থানীয় পর্যায়ে দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক হবে। এছাড়া খালের পাড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে লক্ষ্যমাত্রা সরকার নির্ধারণ করেছে, তা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের খরা প্রবণতা কমানো এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতা দূর করতে এই খনন কার্যক্রম প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
রাজনৈতিকভাবেও এই প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। তারেক রহমান তাঁর পিতার জনপ্রিয় এবং সফল এক উন্নয়ন দর্শনকে পুনরায় সামনে নিয়ে আসার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিজের গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থার জায়গাটি আরও মজবুত করতে চাইছেন। তবে এই বিশাল আশার পাশাপাশি বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খাল খনন করে সুফল পেতে হলে সবার আগে দখলদারদের হাত থেকে জমি উদ্ধার এবং জনগণের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে হবে যেন খালে বর্জ্য ফেলা বন্ধ হয়। যদি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা না যায় এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা দুর্নীতি রোধ করা না যায়, তবে এই মহতী উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া কঠিন হবে। সরকার মূলত এক উন্নত ও স্বনির্ভর গ্রামীণ বাংলাদেশের স্বপ্ন থেকেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনা করেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















