আসন্ন ঈদুল ফিতরে দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের প্রধান প্রবেশদ্বার আরিচা-কাজিরহাট এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটগুলোতে ব্যাপক ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন যানবাহন চালক ও যাত্রীরা। ফেরিঘাটগুলোর মেরামত কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলায় এই উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ঈদের ছুটিতে যানবাহনের চাপ বাড়লে চলমান এই কাজগুলো দ্রুত শেষ না হলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে বলে জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ফেরি লোড-আনলোডের জন্য মানিকগঞ্জের আরিচাতে দুটি, পাটুরিয়াতে পাঁচটি, পাবনার কাজিরহাটে একটি এবং দৌলতদিয়াতে পাঁচটি ঘাটের মধ্যে তিনটি ঘাট ব্যবহার করা হচ্ছে।
নদীর পানি কমা-বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব ঘাট বছরে তিনবার ‘হাই’, ‘মিড’ এবং ‘লো-ওয়াটার লেভেল’ স্তরে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমের কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ঘাটগুলো ‘লো-ওয়াটার লেভেল’-এ স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে অনেক ঘাটের সংযোগ সড়ক অতিরিক্ত ঢালু ও খাড়া হয়ে পড়েছে। ইট ও খোয়া বিছানো এসব সংযোগ সড়কে গর্ত ও ধুলোবালির কারণে চলাচল অনুপযোগী হয়ে উঠেছে, যার মেরামত কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে। এটিই ঈদযাত্রায় ভোগান্তির মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাজিরহাটে অবস্থিত একমাত্র ফেরিঘাটটির অবস্থাও নাজুক। লো-ওয়াটার লেভেলে নামানোর পর এটি এতটাই ঢালু হয়েছে যে, প্রায়শই সংযোগ সড়কের মাঝখানে যানবাহন বিকল হয়ে পড়ছে। এতে ফেরি লোড-আনলোডে অতিরিক্ত সময় লাগছে এবং স্বাভাবিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। যদি কোনো গাড়ি বিকল হয়, তখন ওই ঘাট দিয়ে লোড-আনলোড সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যা ফেরি চলাচলকে আরও ধীর করে তোলে।
সরেজমিনে ফেরিঘাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, আরিচা, পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়ার প্রায় সব ঘাটই লো-ওয়াটার লেভেলে নামানো হয়েছে এবং সংযোগ সড়ক মেরামতের কাজ চলছে। আরিচার ২ নম্বর ঘাটের সংযোগ সড়ক অস্বাভাবিকভাবে ঢালু বা খাড়া হওয়ায় যানবাহন ওঠানামায় চালকদের চরম বেগ পেতে হচ্ছে। পাটুরিয়া এবং দৌলতদিয়া ঘাটের অবস্থাও প্রায় একই রকম।
রিপোর্টারের নাম 























