ঢাকা ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা

ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই আরেকটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে হেঁটেছে বিএনপি সরকার। সোমবার দিনাজপুরে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়ায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খালের পুনঃখনন কাজের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা হলো।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মৃতপ্রায় ও ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনরুদ্ধার করা। এর মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানো এবং খালনির্ভর গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হবে। মৎস্য চাষ, হাঁস পালনসহ বিভিন্ন কৃষি ও অকৃষি খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিরও পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খাল পুনরুদ্ধার হলে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, বন্যা ও জলাবদ্ধতা হ্রাস এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সোয়া ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে যান। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে তিনি ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে ‘খাল খনন কর্মসূচি ২০২৬’ উদ্বোধন করেন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন। বিকালে সাড়ে তিনটায় দিনাজপুর পৌরসভার উপশহরে অবস্থিত শেখ ফরিদ মডেল কবরস্থানে প্রধানমন্ত্রী তার নানা-নানি ও খালার কবর জিয়ারত করেন। দিনের শেষভাগে বিকাল পাঁচটায় দিনাজপুর সার্কিট হাউস চত্বরে এক সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুকনো মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচের পানির সংকট নিরসনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার পর প্রথম খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ১৯৭৭ সালে তার খাল খনন কর্মসূচি গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল, যা ‘সবুজ বিপ্লব’-এর অংশ হিসেবে প্রায় ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খননে ভূমিকা রেখেছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খনন করা অনেক খাল এখন ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এই সংকট নিরসনেই বর্তমান সরকার খাল খননের এই নতুন উদ্যোগ নিয়েছে, যা দেশের কৃষিখাত ও গ্রামীণ জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শবে কদরের ফজিলত পেতে ৫টি সহজ উপায়

দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই আরেকটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে হেঁটেছে বিএনপি সরকার। সোমবার দিনাজপুরে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়ায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খালের পুনঃখনন কাজের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা হলো।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মৃতপ্রায় ও ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনরুদ্ধার করা। এর মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানো এবং খালনির্ভর গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হবে। মৎস্য চাষ, হাঁস পালনসহ বিভিন্ন কৃষি ও অকৃষি খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিরও পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খাল পুনরুদ্ধার হলে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, বন্যা ও জলাবদ্ধতা হ্রাস এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সোয়া ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে যান। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে তিনি ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে ‘খাল খনন কর্মসূচি ২০২৬’ উদ্বোধন করেন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন। বিকালে সাড়ে তিনটায় দিনাজপুর পৌরসভার উপশহরে অবস্থিত শেখ ফরিদ মডেল কবরস্থানে প্রধানমন্ত্রী তার নানা-নানি ও খালার কবর জিয়ারত করেন। দিনের শেষভাগে বিকাল পাঁচটায় দিনাজপুর সার্কিট হাউস চত্বরে এক সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুকনো মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচের পানির সংকট নিরসনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার পর প্রথম খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ১৯৭৭ সালে তার খাল খনন কর্মসূচি গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল, যা ‘সবুজ বিপ্লব’-এর অংশ হিসেবে প্রায় ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খননে ভূমিকা রেখেছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খনন করা অনেক খাল এখন ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এই সংকট নিরসনেই বর্তমান সরকার খাল খননের এই নতুন উদ্যোগ নিয়েছে, যা দেশের কৃষিখাত ও গ্রামীণ জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।