দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির মতে, নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের চিরাচরিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে এভাবে সরাসরি দলীয় পদধারীদের বসানো গণতন্ত্রের জন্য এক গভীর অশনিসংকেত। সোমবার (১৫ মার্চ) রাতে এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই নিয়োগকে জনগণের ভোটাধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন।
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জুলাই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন ও পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জনমনে প্রত্যাশা ছিল যে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাতেও ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। এমনকি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। এমন এক পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করাকে জনগণের সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছে দলটি।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে এই সিদ্ধান্ত মূলত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের অধীনে নিয়ে যাবে। জামায়াত নেতাদের আশঙ্কা, এই পদক্ষেপ স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। জনগণের মতামতকে তোয়াক্কা না করে এ ধরনের ‘নিয়োগনির্ভর’ শাসনব্যবস্থা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে তারা মনে করেন।
অবিলম্বে এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত বাতিল করার দাবি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী দ্রুত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের জোর দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নিজেদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি। সরকারের এই পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত বা ‘বুমেরাং’ হতে পারে বলেও বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























