ঢাকা ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখেও রাজস্ব বৃদ্ধিতে এনবিআরের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য

অর্থনৈতিক বিভিন্ন সংকটের মধ্যেও রাজস্ব আহরণে বড় লক্ষ্যমাত্রার পথে হাঁটছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে ধীরগতি, বিনিয়োগ মন্দা, রপ্তানিতে ভাটা, তীব্র কর্মসংস্থান সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো অনিশ্চয়তার মধ্যেও এনবিআর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আহরণ ৮ শতাংশে উন্নীত করতে চায়। রাজস্ব আদায়ে এমন উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য সামনে রেখে সংস্থাটি একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের কাছে উপস্থাপন করেছে।

বর্তমানে জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আহরণের হার মাত্র ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থানকে তলানিতে রেখেছে। রাজস্ব আহরণের এই হার বাড়াতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পক্ষ থেকেও চাপ রয়েছে। সরকারের সঙ্গে ৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের যে ঋণচুক্তি হয়েছিল, তার অন্যতম শর্ত ছিল রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি। বর্তমানে ঋণচুক্তির পরিমাণ সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং বাংলাদেশ এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেয়েছে। ঋণ পাওয়ার শর্ত হিসেবে রিজার্ভ বৃদ্ধি ও বকেয়া পরিশোধে সক্ষম হলেও রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে। তাই পরবর্তী কিস্তি ছাড়ে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, আইএমএফের শর্ত পূরণের জন্য নয়; দেশের নিজস্ব প্রয়োজনে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে রাজস্ব বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের যেসব প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে রাজস্বের জোগান বৃদ্ধি অপরিহার্য এবং সে লক্ষ্যেই এনবিআর নিরলসভাবে কাজ করছে।

এনবিআরের একজন সদস্য জানান, রাজস্ব বাড়ানোর জন্য একটি গতিশীল অর্থনীতির প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেটি কিছুটা স্থবির অবস্থায় রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অর্থনৈতিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আসে। এর ফলে এডিপি বাস্তবায়নেও বড় ধরনের ধীরগতি তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৮ শতাংশের মতো, যা গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। চলতি অর্থবছরেও (২০২৫-২৬) এডিপি বাস্তবায়নে এই ধীরগতি অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশব্যাপী ৫৩ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখেও রাজস্ব বৃদ্ধিতে এনবিআরের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য

আপডেট সময় : ০৬:৫৩:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

অর্থনৈতিক বিভিন্ন সংকটের মধ্যেও রাজস্ব আহরণে বড় লক্ষ্যমাত্রার পথে হাঁটছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে ধীরগতি, বিনিয়োগ মন্দা, রপ্তানিতে ভাটা, তীব্র কর্মসংস্থান সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো অনিশ্চয়তার মধ্যেও এনবিআর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আহরণ ৮ শতাংশে উন্নীত করতে চায়। রাজস্ব আদায়ে এমন উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য সামনে রেখে সংস্থাটি একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের কাছে উপস্থাপন করেছে।

বর্তমানে জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আহরণের হার মাত্র ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থানকে তলানিতে রেখেছে। রাজস্ব আহরণের এই হার বাড়াতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পক্ষ থেকেও চাপ রয়েছে। সরকারের সঙ্গে ৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের যে ঋণচুক্তি হয়েছিল, তার অন্যতম শর্ত ছিল রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি। বর্তমানে ঋণচুক্তির পরিমাণ সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং বাংলাদেশ এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেয়েছে। ঋণ পাওয়ার শর্ত হিসেবে রিজার্ভ বৃদ্ধি ও বকেয়া পরিশোধে সক্ষম হলেও রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে। তাই পরবর্তী কিস্তি ছাড়ে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, আইএমএফের শর্ত পূরণের জন্য নয়; দেশের নিজস্ব প্রয়োজনে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে রাজস্ব বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের যেসব প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে রাজস্বের জোগান বৃদ্ধি অপরিহার্য এবং সে লক্ষ্যেই এনবিআর নিরলসভাবে কাজ করছে।

এনবিআরের একজন সদস্য জানান, রাজস্ব বাড়ানোর জন্য একটি গতিশীল অর্থনীতির প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেটি কিছুটা স্থবির অবস্থায় রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অর্থনৈতিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আসে। এর ফলে এডিপি বাস্তবায়নেও বড় ধরনের ধীরগতি তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৮ শতাংশের মতো, যা গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। চলতি অর্থবছরেও (২০২৫-২৬) এডিপি বাস্তবায়নে এই ধীরগতি অব্যাহত রয়েছে।