ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
গত শুক্রবার রাতে উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের চন্দনচহট গ্রামে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আলোচনা করছিলেন স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা জামায়াতের সংসদ সদস্যদের কক্ষ ত্যাগের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করলে সেখানে উপস্থিত নেকমরদ ইউনিয়ন ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি আক্তার হোসেন এর প্রতিবাদ জানান। এই প্রতিবাদ থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়, যা দ্রুতই উত্তেজনার রূপ নেয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে গড়ায়।
সংঘর্ষে বিএনপি নেতা আরিফুল ইসলাম, ফারুক, রুবেল এবং জামায়াত নেতা আক্তার হোসেন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পরদিন শনিবার বিএনপি নেতা আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে, জামায়াত নেতা রবিউল ইসলামও পাঁচজনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। পুলিশ পরবর্তীতে হাসপাতালের শয্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা আক্তারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখায়।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সম্পাদক আল্লামা ওয়াদুদ বিন নুর আলিফ অভিযোগ করেন, জামায়াতের লোকজন বিএনপি নেতাকর্মীদের বেধড়ক মারধর করেছে এবং একজনের মাথায় কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করেছে, যার জন্য ১০টি সেলাই লেগেছে। তিনি জানান, বিষয়টি দলীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রেস সেক্রেটারি শাহাজালাল জুয়েল বলেন, তাদের কর্মীর মাথা ফেটে ১০টি সেলাই লেগেছে। এরপরও তাকে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যা চরম অমানবিক।
রাণীশংকৈল থানার ওসি আমানুল্লাহ আল বারী জানান, উভয় পক্ষই থানায় মামলা করেছে এবং একজনকে (শোন অ্যারেস্ট) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 



















