কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের সাইরার ডেইল এলাকায় বঙ্গোপসাগরের উপকূলে বেড়িবাঁধ ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, জোয়ারের তীব্র চাপ এবং নদীভাঙনের কারণে বাঁধের কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ চরম উদ্বেগে রয়েছেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, মাছ ও চিংড়ির ঘের, লবণক্ষেত, বসতভিটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ঘুরে দেখেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।
পরিদর্শন শেষে মাতারবাড়ীর সাইরার ডেইল এলাকায় সাগরভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী। তিনি বলেন, উপকূলীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন। শুধু সাময়িক মেরামত নয়, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই ও মানসম্মত বাঁধ নির্মাণের বিকল্প নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় উপকূলীয় অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করা সময়ের দাবি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ দুর্বল হয়ে পড়লেও সময়মতো কার্যকর সংস্কার করা হয় না। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুম ও বৈরী আবহাওয়ায় নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়। অনেক সময় অস্থায়ী সংস্কার করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এলাকাবাসী জানান, ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করলে কৃষিজমির ফসল, লবণচাষ, মাছ ও চিংড়ির ঘের এবং বসতবাড়ি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে। পাশাপাশি লবণাক্ত পানি প্রবেশের ফলে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অতিবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই শুধু জরুরি মেরামত নয়, আধুনিক প্রকৌশল নকশায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
রিপোর্টারের নাম 



















